Image description

বগুড়ায় বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় শিল্পপতি শফিকুল ইসলাম শিরুকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

 

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে বগুড়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এ জামিন শুনানির জন্য হাজির হলে বিচারক তাসকিন আহমেদ এই আদেশ দেন।

 

শফিকুল ইসলাম শিরু বগুড়ার শেরপুর উপজেলার শিনু এগ্রো ফুড ইন্ডাস্ট্রির মালিক হিসেবে পরিচিত।

 

মামলার বিবরণে জানা যায়, ভুক্তভোগীর সঙ্গে ২০১০ সালে শিরুর বিয়ে হয়। তাদের সংসারে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম হয়, যার বর্তমান বয়স ১৪ বছর। তবে সন্তানের জন্মের পর থেকেই শিরু পিতৃত্ব অস্বীকার করে আসছিলেন। সন্তানের পিতৃত্বের স্বীকৃতি চেয়ে ২০১৯ সালে শেরপুর থানা সহকারী জজ আদালতে মামলা করেন ওই নারী। মামলাটি বর্তমানে সোনাতলা সহকারী জজ আদালতে বিচারাধীন। একই বছরের ২৭ আগস্ট শিরু তাকে ডিবোর্স দেন।

 

এরপর দেনমোহর, খোরপোষ ও সন্তানের ভরণপোষণের দাবিতে আরও একটি মামলা করেন ওই নারী। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব মামলা তুলে নেওয়ার শর্তে শিরু পুনরায় বিয়ের প্রস্তাব দেন। পরে পিতৃত্ব সংক্রান্ত মামলা রেখে অন্য মামলা প্রত্যাহার করা হলেও শিরু তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি।

 

মামলায় আরও বলা হয়, ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ২৬ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে বিয়ের প্রলোভনে তাকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করেন শিরু। সর্বশেষ ২০২৫ সালের ৩ সেপ্টেম্বর কাবিননামার মাধ্যমে বিয়ের কথা বলা হলে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। পরে গত বছরের ১০ নভেম্বর শেরপুর থানায় বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন ভুক্তভোগী নারী।

 

ওই মামলায় বৃহস্পতিবার বগুড়া চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিন শুনানির দিন ধার্য ছিল। শুনানিতে হাজির হলে আদালত তার জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

 

ওই নারী বলেন, শিরু প্রতারণা করেছে। সন্তানের পিতৃত্ব স্বীকার করছে না। বিয়ের পর তালাক দিয়ে মামলা তুলে নিতে বিয়ের প্রলোভন দেখানো হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিয়ে না করে সে অপরাধ করেছে।

 

বাদীপক্ষের আইনজীবী আল আমিন রাসেল জানান, এর আগে এ মামলায় শিরু উচ্চ আদালত থেকে আগাম জামিন নিয়েছিলেন। তবে নিম্ন আদালতে হাজির হওয়ার পর তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করা হয়েছে।