Image description

সংকট বৈশ্বিক। সিলেটও এর বাইরে নয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা পাম্প মালিকদের। জ্বালানি কম পাচ্ছেন। তবুও নিজেরা রেশনিং করে চালাচ্ছেন। পাম্প মালিকরা নিজেরাই পাম্পে উপস্থিত থেকে মনিটরিং করছেন। তাহলে কেন সিলেটে পাম্পমালিকরা ধর্মঘটে গেলেন আর কেনই বা তাদের এত ক্ষোভ? ১৪ ঘণ্টা সিলেটে জ্বালানি বিক্রি করেননি তারা। এতে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছিলো। শুধু তাই নয়, জ্বালানি বহনকারী ট্যাঙ্কলরি শ্রমিকরা এবারই প্রথম দুইঘণ্টা অবরোধ করে রাখলেন। চেইনে চলে সিলেটের জ্বালানি খাত। মনে কষ্ট আছে সিলেটের মানুষেরও।

কৈলাশটিলা, রশিদপুর সহ বিভিন্ন স্থানে জ্বালানি উৎপাদন হয়। কিন্তু নিজেদের হিস্যা কখনোই পান না। কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকা থেকে মনিটরিং করা হয়। যা দেয় তাই বিক্রি করেন। অনিয়মের অভিযোগ আছে জ্বালানি মালিকদের উপরও। তবে সেটি ঢালাও নয়। জ্বালানি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছে- সিলেটে সব মিলিয়ে চাহিদা প্রায় ১১ লাখ লিটার জ্বালানি। এর মধ্যে ৮ লাখের উপরে চাহিদা ডিজেলের। বাকি আড়াই লাখ হচ্ছে পেট্রোল ও অকটনের। অর্ধেক জ্বালানি পাচ্ছেন তারা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখছেন। বর্তমান সংকটে কোনো অভিযোগ উঠছে না। অস্থিতিশীল হচ্ছে না পরিবেশ। তাদের মতে; অতি উৎসাহী হয়ে উঠেছেন সিলেটের প্রশাসনের কর্মকর্তারা। একদিকে জেলা প্রশাসক সরওয়ার আলম অন্যদিকে পুলিশ কমিশনার আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী। সরকার তো মনিটরিংয়ের জন্য ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করেছেন।

ট্যাগ অফিসারদের নির্দেশ পালন করছেন জ্বালানি ব্যবসায়ীরা। হঠাৎ করেই জেলা প্রশাসনের তৎপরতা। সংকট মুহূর্তে অভিযান। এখনই সব নিয়ম যাচাই করতে হচ্ছে। কোথাও কোনো চুরি হচ্ছে কি না দেখা হচ্ছে। এতে আপত্তি নেই পাম্পমালিকদের। পেট্রোলপাম্প মালিক এসোসিয়েশনের সিনিয়র নেতা ব্যারিস্টার রিয়াসত আজিম আদনান জানিয়েছেন- জেলা প্রশাসন থেকে বুধবার সিলেটে পাম্পে অভিযান চালানো হয়। তিন পাম্প মালিকদের জরিমানা করা হয়। অভিযোগ বিস্তর নয়। এক পাম্পের তেল অন্য পাম্পে নিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। তার মতে; এক মালিকের তিন পাম্প। পাচ্ছেন এক পাম্পের তেল বরাদ্ধ। সেটি ট্যাগ অফিসারের অনুমতি সাপেক্ষে তিন পাম্পে নিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে তিন পাম্পেই সঙ্কট কাটছে। পাম্পে গিয়ে গ্রাহকরা হতাশ হচ্ছেন না। এটি মানছেন না সিলেটের জেলা প্রশাসক। মনোভাব এমন জরিমানা করতেই হবে। এখন কোনো সেই জরিমানা-এ প্রশ্ন পাম্পমালিকদের বলে জানান- তিনি।

সিলেটের রশিদপুর পাম্পের নুরুল ওয়াইস আলতাফি। বুধবার বিকালে হঠাৎ করেই ডিবি পুলিশ তাকে ডেকে আনে মোগলাবাজার ডিপোতে। সেখানে বসিয়ে রাখা হয়। অভিযোগ তিনি এক পাম্পের তেল ৩ পাম্পে নিয়েছেন। নিয়মবর্হিভূত বলে বলছে প্রশাসন। খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যান পাম্পমালিকরা। লিখিত কোনো অভিযোগ নেই, তবু পাম্পমালিককে হয়রানী। পুলিশের তরফ থেকে কোনো সদুত্তর মিলছে না। এতে ক্ষুব্ধ হন পাম্পমালিকরা। জেলা প্রশাসনের অভিযানের বিরুদ্ধে মধ্য রাতেই তারা সিলেটে ধর্মঘটের ডাক দেন। তার আগে পাম্প ও ট্যাঙ্কলরি শ্রমিকরা কর্ম বিরতিতে যান। চণ্ডীপুলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করা হয়। রাত ৩টায় অবরোধ প্রত্যাহার হয়। তবে পাম্পের ধর্মঘট চলে। সকাল হতে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সিলেটে। পাম্পে পাম্পে ভিড়। কেউ জ্বালানি বিক্রি করছেন না।

গাড়ির চাকা বন্ধ হওয়ার মতো পরিস্থিতি। সিএনজি পাম্পমালিকরা ঘোষণা দিয়েছিলেন আজ শুক্রবার থেকে কর্মবিরতিতে যাবেন। এক ধরনের অস্বস্তি সিলেটে। সমঝোতায় এগিয়ে আসেন সিলেট বিএনপি নেতারা। দুপুরেই বৈঠক বসে জেলা প্রশাসনের হলরুমে। হলভর্তি মানুষ। যুক্তি-পাল্টা যুক্তি। পাম্প মালিকদের ক্ষোভ নিজেই খণ্ডন করেন জেলা প্রশাসক। এতেও সুরাহা হচ্ছে না। বরং কথায় কথায় বাড়ছিলো। পাম্প মালিকরা এবং প্রশাসন মুখোমুখি। সংকটময় মুহূর্তে পাম্পমালিকদের বক্তব্যও যৌক্তিক। আইনের যুক্তিতে জেলা প্রশাসকও সঠিক। এই অবস্থায় সিলেটের বাইরে থাকলেও সরব হন দুই মন্ত্রী। মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সুইজারল্যান্ড থেকে একাধিকবার ফোন করেছেন পাম্পমালিক সংগঠনের সভাপতি জুবায়ের আহমদ চৌধুরীকে। আর সিটি প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীকে ফোন করে বিষয়টি সুরাহা করার নির্দেশনা দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

দীর্ঘ আলোচনার পর দু’পক্ষই নমনীয় হয়েছেন। এককাতারে এসেছেন পাম্পমালিক ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা। পরিস্থিতি ঘোলাটে নয়, একে-অপরের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে সংকটের সমাধান করা হবে। ইতি টানলেন পাম্পমালিক সমিতির সভাপতি জুবায়ের। বেলা পৌনে দুইটার দিকে ঘোষণা দিলেন কর্মসূচি প্রত্যাহারের। জেলা প্রশাসক সরওয়ার আলম পাম্পমালিকদের আশ্বস্থ করে বলেন- তিনিও পাম্পমালিকদের সহযোগিতা করবেন। যেকোনো সমস্যা সমাধানে এক সঙ্গে কাজ করবেন। সিটি প্রশাসক ও জেলা বিএনপি’র সভাপতি আব্দুল কাইয়ূম চৌধুরী জানিয়েছেন- আমরা এই মুহূর্তে কোনো বিতর্ক চাই না। সরকার সমস্যায় পড়ুক সেটি কারও কাম্য নয়। এ কারণে আমরা আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করেছি। তবে সার্বিক বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন নগর বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান লোদী কয়েস। পুরো ঘটনায় তিনি এককভাবে কাউকে দায়ী না করলেও বলে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার কোনো চক্রান্ত কী না সেটি খতিয়ে দেখতে হবে বলে জানান। বলেন- বৈশ্বিক মন্দার এই সময়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার আহ্বান জানান তিনি।