Image description

ইরানে হামলার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ভাষণের পর কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে ‘বিধ্বংসী’ হামলার হুমকি দিয়েছে দেশটি। এ ছাড়া তেল আবিবকে লক্ষ্য করে কয়েক দফা হামলাও চালিয়েছে। হোয়াইট হাউসে দেয়া প্রাইম-টাইম ভাষণে ট্রাম্প বলেন, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র তাদের লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছাকাছি চলে গেছে। তবে ইরান সমঝোতায় না এলে হামলা আরও জোরদার করা হবে। তিনি বলেন, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে আমরা তাদের প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে দেবো। এর জবাবে ইরান দ্রুত পাল্টা পদক্ষেপ নেয়।

ইসরাইলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয় এবং তেল আবিবের বিভিন্ন স্থানে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এতে অন্তত চারজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ইরানের সামরিক কমান্ড সেন্টার খাতাম আল-আম্বিয়া রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে সতর্ক করে বলেছে, সামনে আরও ‘বিস্তৃত ও ধ্বংসাত্মক’ হামলা চালানো হবে। গত সপ্তাহ থেকে ট্রাম্প দ্রুত যুদ্ধ শেষের কথা বললেও তাতে সায় দেয়নি ইরান। উল্টো কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছে। বারবার যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। ইরান বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব অযৌক্তিক এবং অবাস্তব। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই বলেন, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো আলোচনা হচ্ছে না।

ট্রাম্পের হুমকিতে যুদ্ধ দীর্ঘ হওয়ার ইঙ্গিত: ট্রাম্প নতুন করে হামলার হুমকি দেয়ায় চলমান এই যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা আরও ক্ষীণ হয়ে পড়েছে। এর প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবারো বেড়ে গেছে, যা ভোক্তাদের জন্য নতুন চাপ তৈরি করেছে। বুধবার রাতে দেয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরানের ওপর আরও জোরালো হামলা চালানো হবে। তবে যুদ্ধ কবে শেষ হতে পারে সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো সময়সীমা দেননি তিনি। এর ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বেড়েছে। শেয়ারবাজারে পতন এবং ডলারের মান বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশ্ববাজারে বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৯ ডলারে পৌঁছেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি প্রায় অচল হয়ে পড়ায় জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ইরান ইতিমধ্যে প্রণালিটি কার্যত নিয়ন্ত্রণে নিয়ে তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানোর সক্ষমতা দেখিয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহের ওপর তাদের প্রভাব বাড়ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এদিকে ইউরোপসহ প্রায় ৪০টি দেশ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ-চলাচল পুনরুদ্ধারের উপায় নিয়ে আলোচনা করছে। তবে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন বলেছেন, এ ধরনের উদ্যোগ ইরানের সঙ্গে সমন্বয় ছাড়া সম্ভব নয়।

ইরানের সংসদে একটি বিল বিবেচনাধীন রয়েছে, যার মাধ্যমে শত্রু দেশের জাহাজ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ এবং অন্যদের জন্য টোল আরোপ বৈধ করা হতে পারে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র বাগদাদে তাদের নাগরিকদের দ্রুত ইরাক ত্যাগের আহ্বান জানিয়েছে, সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায়। বিশ্ব অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। জ্বালানির ঘাটতির কারণে এশিয়ায় অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে এবং শিগগিরই ইউরোপেও এর প্রভাব পড়তে পারে। ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্ক করেছেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে অভিবাসন সংকটও বাড়তে পারে।