যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের আক্রমণ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেওয়ার পরই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে বিশ্বজুড়ে তেল সরবরাহে দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্নের আশঙ্কা আরও বাড়ল।
বৃহস্পতিবার (০২ এপ্রিল) এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ সময় বিকেলে ৫টা ৩৯ মিনিটে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮.২ শতাংশ বেড়ে ১০৯.৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ইউএস ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুড ফিউচার্স ব্যারেলপ্রতি ৯.২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৯.৩৫ ডলারে। এটি গত ৯ মার্চের পর সর্বোচ্চ।
গত তিন সপ্তাহের মধ্যে উভয় সূচকই সর্বোচ্চ দৈনিক বৃদ্ধির দিকে এগোচ্ছিল। যদিও সংঘাতের শুরুতে ব্যারেলপ্রতি ১১৯ ডলারের ওপরে ওঠা সর্বোচ্চ স্তরের নিচেই তা রয়ে গেছে।
এদিন ট্রাম্প ঘোষণা দেন, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে আমরা তাদের ওপর চরম আঘাত হানব। আমরা তাদের ‘প্রস্তর যুগে’ ফিরিয়ে নিয়ে যাব, যেখানে তাদের থাকা উচিত।
তবে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলতে পারে এমন কোনো পদক্ষেপের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
ফিলিপ নোভার সিনিয়র মার্কেট অ্যানালিস্ট প্রিয়াঙ্কা সচদেভা বলেছেন, ভাষণে যুদ্ধবিরতি বা কূটনৈতিক আলোচনার কোনো স্পষ্ট উল্লেখ না থাকায় বাজারে প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। উত্তেজনা বাড়লে বা সামুদ্রিক ঝুঁকি বৃদ্ধি পেলে, সম্ভাব্য সরবরাহ বিঘ্নের বিষয়টি বাজারে মূল্যায়িত হওয়ার কারণে তেলের দাম নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে।
হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার বিভিন্ন বিকল্প নিয়ে আলোচনার জন্য ব্রিটেন ৩৫টি দেশের একটি ভার্চুয়াল বৈঠকের আয়োজন করছে। এই বৈঠকে যোগ দেবে না যুক্তরাষ্ট্র।
বুধবার কাতারের জলসীমায় কাতারএনার্জির কাছে ইজারা নেওয়া একটি তেল ট্যাংকার ইরানের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
বাজারের কিছু অংশগ্রহণকারী জানিয়েছেন, তারা দুবাই মিডল ইস্ট বেঞ্চমার্কের ভিত্তিতে নির্ধারিত কার্গোর লেনদেন বন্ধ করে দিয়েছেন। কারণ হরমুজ প্রণালির ভেতরের বন্দরগুলো ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এই বেঞ্চমার্কটি সাধারণত বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশের মূল্য নির্ধারণ করতে ব্যবহৃত হয়।
এদিকে সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, ওপেক+ রোববার তেল উৎপাদন আরও বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। এই পদক্ষেপটি হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে গেলে সদস্য দেশগুলোকে আরও তেল যোগ করার সুযোগ করে দেবে। কিন্তু তার আগে সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার সম্ভাবনা নেই।