Image description

দেশের বিভিন্ন জেলায় হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এ পর্যন্ত হাজারের বেশি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। মৃত্যু হয়েছে অনেক শিশুর। দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অভিভাবকরা। এই প্রাদুর্ভাবের পেছনে টিকা দিতে না পারাকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। এর থেকে বাঁচতে টিকা নেওয়াসহ বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।

 

হজরত মুহাম্মদ (সা.) মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নানাবিধ পরামর্শ দিয়েছেন। আল্লাহর কাছে দোয়া করতে বলেছেন। শিখিয়েছেন কিছু দোয়াও। হাদিসে কিছু দোয়ার কথা বলা হয়েছে, যেগুলো পড়লে শারীরিক ক্ষতি ও অনিষ্ট থেকে সুরক্ষা পাওয়া যায়। কারণ, দোয়ার বরকতে আল্লাহ রোগবালাই থেকে মানুষকে রক্ষা করেন।

 

হাম ও বিভিন্ন রোগ থেকে বাঁচতে সঠিক চিকিৎসার পাশাপাশি হাদিসে বর্ণিত দোয়া পড়া যেতে পারে। দোয়া পড়ে শিশুদের শরীরে ফুঁ দেওয়া যেতে পারে। একইসঙ্গে ধৈর্য ধারণ করতে হবে। সাহায্য চাইতে হবে আল্লাহর কাছে। এখানে কয়েকটি দোয়া উল্লেখ করা হলো—

 

১. হাম বা যে কোনো রোগে আক্রান্ত হওয়া মানুষের জন্য বড় বিপদ। কাউকে বিপদে দেখলে দোয়া পড়তে বলেছেন রাসুলুল্লাহ (সা.)। দোয়াটি পড়লে আল্লাহ তাকে এ বিপদে ফেলবেন না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কেউ যদি কাউকে বিপদগ্রস্ত দেখে এই দোয়াটি পড়ে, তবে সে যত দিন জীবিত থাকবে, তত দিন পর্যন্ত যে কোনো ধরনের বিপদ হোক না কেন, আল্লাহ তাকে সেই বিপদ থেকে মুক্ত রাখবেন। দোয়াটি হলো—

الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي عَافَانِي مِمَّا ابْتَلاَكَ بِهِ وَفَضَّلَنِي عَلَى كَثِيرٍ مِمَّنْ خَلَقَ تَفْضِيلاً

 

উচ্চারণ: আলহামদুলিল্লা হিল্লাজি আফানি, মিম্মাব তালাকা বিহি, ওয়া ফাজ্জালানি আলা কাসিরিম মিম্মান খালাকা তাফজিলাং।

 

অর্থ: সব প্রশংসা আল্লাহর, তিনি তোমাকে যে ব্যাধিতে আক্রান্ত করেছেন, তা থেকে আমাকে নিরাপদ রেখেছেন এবং তার অসংখ্য সৃষ্টির ওপর আমাকে সম্মান দান করেছেন।

 

২. উসমান বিন আফফান (রা.) বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, যে তিনবার সন্ধ্যায় এ দোয়াটি বলবে, ভোর হওয়া পর্যন্ত তাকে কোনো আকস্মিক বিপদ আক্রমণ করবে না। যে সকালে তিনবার পড়বে, সন্ধ্যা হওয়া পর্যন্ত আকস্মিক বিপদ তাকে আক্রমণ করবে না। দোয়াটি হলো—

 

بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ

উচ্চারণ: বিসমিল্লাহিল্লাজি লা ইয়াজুররু মাআস মিহি শাইয়ুন ফিল আরজি, ওয়া লা ফিসসামায়ি, ওয়া হুআস সামিয়ুল আলিম।

 

অর্থ: আমি আশ্রয় চাচ্ছি আল্লাহর নামে, যার নামে আশ্রয় চাইলে জমিনে ও আসমানের কোনো কিছু ক্ষতি করে না। তিনি হচ্ছেন সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৫০৮৮)

 

৩. দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে বাঁচতে রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি দোয়া পড়তেন। দোয়াটি হলো—

 

اللَّهمَّ إنِّي أعوذُ بِكَ منَ البرصِ والجنونِ والجذامِ ومن سيِّئِ الأسقامِ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল বারাসি, ওয়াল জুনুনি, ওয়াল জুযামি, ওয়া মিন সাইয়ি ইল আসকাম।

 

অর্থ: হে আল্লাহ, আমি শ্বেত, পাগলামি, কুষ্ঠ এবং ঘৃণ্য রোগগুলো থেকে তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি। (সুনানে আবু দাউদ)

 


৪. আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, ‘এক লোক নবী (সা.)-এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসুল, গত রাতে এক বিচ্ছুর কামড়ে আমি কী কষ্টই না পাচ্ছি! নবী (সা.) বললেন, ‘সন্ধ্যার সময় তুমি যদি এ দোয়াটি পড়তে, তাহলে তোমার কোনো ক্ষতি করত না। দোয়াটি হলো—

 

أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ

উচ্চারণ: আউজু বিকালিমা তিল্লাহিত তাম্মাতি, মিন শাররি মা খালাকা।

 

অর্থ: আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ বাক্যসমূহ দিয়ে তিনি অনষ্টিকর যা কিছু সৃষ্টি করেছেন, তা থেকে আশ্রয় চাচ্ছি। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৭৯০)

 

 

 

৫. আবদুর রহমান ইবনে আবু বকর (রা.) বলেন, ‘আমি আমার বাবাকে বললাম, বাবা, আমি আপনাকে প্রতিদিন ভোরে ও সন্ধ্যায় তিনবার বলতে শুনি, আপনি এ দোয়া পড়েছন। তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে এ বাক্যগুলো দিয়ে দোয়া করতে শুনেছি। সেজন্য আমিও তার নিয়ম অনুসরণ করতে ভালোবাসি। দোয়াটি হলো—

 


اللَّهُمَّ عَافِنِي فِي بَدَنِي اللَّهُمَّ عَافِنِي فِي سَمْعِي اللَّهُمَّ عَافِنِي فِي بَصَرِي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ الْكُفْرِ وَالْفَقْرِ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عَذَابِ الْقَبْرِ لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ

 

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আফিনি ফি বাদানি, আল্লাহুম্মা আফিনি ফি সাময়ি,আল্লাহুম্মা আফিনি ফি বাসারি। লা ইলাহা ইল্লা আনতা। আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা মিনাল কুফরি ওয়াল ফাকরি। আল্লাহুম্ম ইন্নি আউজুবিকা মিন আজাবিল কাবারি, লা ইলাহা ইল্লা ইনতা।

 

অর্থ: হে আল্লাহ, আমার দেহ সুস্থ রাখুন। হে আল্লাহ, আমাকে সুস্থ রাখুন আমার শ্রবণ ইন্দ্রিয়ে। হে আল্লাহ, আমাকে সুস্থ রাখুন আমার দৃষ্টিশক্তিতে। আপনি ছাড়া কোনো উপাসক নেই। হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই কুফুরি এবং দারিদ্রতা থেকে। হে আল্লাহ, আপনি আমাকে কবরের আজাব থেকে রক্ষা করুন। আপনি ছাড়া কোনো উপাসক নেই। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ৫০৯০)