Image description

ঢাকায় পাকিস্তান দিবস পালনের জের ধরে বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সহকারী সদস্য সচিব জিহাদী ইহসানকে প্রাণনাশের একাধিক হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় নিজের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছেন জুলাই সংগ্রামী এই ছাত্রনেতা। 

রাজধানীর পল্টন মডেল থানায় গতকাল ৩১ মার্চ দায়েরকৃত জিডির নম্বর ২০২২। এ জিডির বিষয়ে প্রয়োজনীয়  আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পল্টন থানার সহকারী পরিদর্শক সামিম হাসানকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

জিডির বিষয়ে জিহাদী ইহসান বলেছেন, শহীদ ওসমান হাদীকে হত্যা করার পর সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো হিটলিস্টে তার নাম সাত নম্বরে ছিল। তাই শহীদ ওসমান হাদী হত্যার তিন মাসের মাথায় তাকে হত্যার হুমকি প্রদান ও সামাজিক মাধ্যমে তাকে হত্যাযোগ্য করার উদ্দেশ্যমূলক প্রচারণার কারণে তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। এ অবস্থায় আমি পুলিশের শরণাপন্ন হতে জিডি করেছি।

জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, “আমি জিহাদী ইহসান জুলাই বিপ্লবের পর গঠিত প্রথম রাজনৈতিক দল জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের ছাত্র সংগঠন বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের কেন্দ্রীয় সহকারী সদস্য সচিব। গত ২৩ মার্চ দলের কেন্দ্রীয় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ লাহোরে সর্বজন শ্রদ্ধেয় বাংলাদেশী মুসলিম জাতীয়তাবাদী নেতা শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক উত্থাপিত পাকিস্তান প্রস্তাব দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও  আলোচনা সভায় বক্তব্য প্রদান করি। এ কর্মসূচি পালনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মুসলিম জাতীয়তাবাদ বিরোধী কতিপয় ফ্যাসিস্ট, উগ্রবাদী ও সাম্প্রদায়িক দুর্বৃত্ত আমাকে হত্যার হুমকি প্রদান করে।”

জিডিতে হত্যার হুমকি প্রদানকারী ফেসবুক আইডিগুলোর—‘সংকর্ষণ ঘোষ’, ‘মাইকেল স্কোফিল্ড’, ‘আমিয়ান খান’ ও ‘হাসান সাহিন আহাসান’—এর লিংক এবং হুমকির বিস্তারিত বিবরণ উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়াও জিডিতে জিহাদী ইহসান অভিযোগ করেছেন, চট্টগ্রামে আয়ান শর্মা ও তৌফিক ইফতেখার নামে দুই আওয়ামী লীগ সমর্থক ‘সম্মিলিত নাগরিক কমিটি’র ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন করে তার বিরুদ্ধে উস্কানিমূলক ও মানহানিকর বক্তব্য দিয়েছে। 

জিডিতে জিহাদী ইহসান বলেন, “২৩ মার্চের আলোচনা সভায় নিখিল ভারত কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মুজাফ্‌ফর আহমদের বই ও উইকিপিডিয়ার রেফারেন্স অনুযায়ী আমি সূর্য সেন ও প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের সন্ত্রাসবাদী পরিচয়ের কথা উল্লেখ করি। এখনো তারা সন্ত্রাসবাদী আন্দোলনের নেতা হিসেবেই বইপুস্তকে উল্লেখিত। পৃথিবীর ইতিহাসে তারাই প্রথম সুইসাইড বোমা নিক্ষেপ করে। ইতিহাসের পর্যালোচনা করে তাদের বিষয়ে কথা বলায় একাধিক হত্যার হুমকি দেওয়া আমার জন্য ভয়াবহ উৎকন্ঠার বিষয়। ”

তিনি বলেন, “ইতিহাসের গতানুগতিক ধারাবাহিকতার বাহিরে এসে আলাপচারিতা করা আমার গণতান্ত্রিক অধিকার, যা একদল উগ্রপন্থী সন্ত্রাসী কেড়ে নিতে চাচ্ছে। ঠিক একইভাবে শহীদ ওসমান হাদীকে হত্যা করার ন্যারেটিভ তৈরি করা হয়েছিল। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার আগে বিভিন্ন বক্তব্যকে ঘিরে তাকে হত্যাযোগ্য করে তোলা হয়েছিল। আওয়ামী ফ্যাসিস্ট ও উগ্র সাম্প্রদায়িকদের ন্যারেটিভের পর শহীদ ওসমান হাদীকে হত্যা করা হয়েছিল।  শহীদ হাদীকে হত্যার পর ফেসবুকে ছড়ানো টার্গেটের তালিকায় আমার নাম সাত নম্বরে উল্লেখ করা হয়েছিল। তাই শহীদ ওসমান হাদির মতো আমাকে হত্যার হুমকি দেওয়ায় আমি আমার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। ”

তিনি আরও বলেন, “আমি আশংকা করছি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার ইন্দনে জুলাই যোদ্ধাদের নিধন করার মিশনের অংশ হিসেবে আমাকে হুমকি প্রদান করা হয়েছে। এমতাবস্থায় আমি দেশপ্রেমিক সুনাগরিক ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ায় আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর কাছে আমার জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে এবং নাগরিক অধিকার রক্ষার জন্য হত্যার  হুমকিদাতা ও উস্কানিদাতাদের আইনের আওাতায় এনে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।”