Image description

মাদারীপুরে ডাবের দাম কম দেওয়ার প্রতিবাদ করায় এক বিক্রেতাকে ‘চোখ উপড়ে ফেলার’ হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ট্রাফিক পুলিশের এক সার্জেন্টের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

ভুক্তভোগী আব্দুল করিম বেপারী শহরের সরদার কলোনিতে ভাড়া বাসায় থাকেন। তিনি সদর উপজেলার গাছবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার রাত ৮টার দিকে জেলা প্রশাসকের বাসভবনের সামনে থেকে আব্দুল করিমের কাছ থেকে ৮টি ডাব নেন ট্রাফিক পুলিশের সার্জেন্ট রফিক। বিক্রেতার দাবি, ১২০০ টাকার ডাবের বিপরীতে তাকে মাত্র ৫০০ টাকা দেওয়া হয়। বাকি টাকা চাইলে সার্জেন্ট তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন এবং ‘চোখ উপড়ে ফেলার’ হুমকি দেন বলে অভিযোগ।

এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।

পরদিন শনিবার সকালে ট্রাফিক পরিদর্শক রেদওয়ান আহম্মেদ আব্দুল করিমকে তার বাসা থেকে ডেকে মাদারীপুর জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিয়ে যান। সেখানে তাকে প্রায় ৬ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের নামে বসিয়ে রাখা হয় এবং একটি লিখিত কাগজে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।

এ বিষয়ে জানতে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে গেলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম তাদের সঙ্গে অসদাচরণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

ভুক্তভোগী আব্দুল করিম বলেন, ‘একদিকে ডাবের দাম কম দিয়ে হুমকি, অন্যদিকে পরদিন আমাকে দীর্ঘ সময় ধরে বসিয়ে রাখা হয়েছে।

আমি এর বিচার চাই।’

ঘটনার সময় উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শী কাওসার মাহমুদ জানান, দাম নিয়ে কথা বললে সার্জেন্ট তার সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করেন এবং একপর্যায়ে বিক্রেতাকে জোর করে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করেন। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

তবে অভিযুক্ত সার্জেন্ট রফিক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমি ডাবও খাইনি, কাউকে হুমকিও দিইনি।

এ বিষয়ে মাদারীপুর জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে ডাব বিক্রেতাকে ডেকে আনা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’