Image description
২০ কোটি টাকার বেশি অপরিশোধিত

ব্যাংক খাতে বড় অঙ্কের ঋণগ্রহীতারাই বেশি খেলাপি। ২০ কোটি টাকার বেশি ঋণখেলাপি গ্রাহক রয়েছে ৫ হাজার ১১৩টি প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের নেওয়া ঋণের পরিমাণ ৮ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ ৩ লাখ ৩২ হাজার ৫০৪ কোটি টাকা। যা মোট খেলাপি ঋণের প্রায় ৬০ শতাংশ। এর মধ্যে ৫০ কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণগ্রহীতা এবং তাদের খেলাপির পরিমাণও বেশি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়।

প্রতিবেদন থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক খাতে বিতরণ করা মোট ঋণের পরিমাণ ১৭ লাখ ৭৭ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০ কোটি টাকার বেশি ঋণগ্রহীতাদের কাছে বিতরণ করা হয়েছে ৮ লাখ ২৩ হাজার কোটি টাকা। যা মোট বিতরণ করা ঋণের ৪৬ দশমিক ৩১ শতাংশ। এর মধ্যে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে ৫ হাজার ১১৩টি প্রতিষ্ঠান। এদের কাছে খেলাপির পরিমাণ ৩ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা। যা মোট খেলাপি ঋণের প্রায় ৬০ শতাংশ। অন্যদিকে এসব গ্রাহকের কাছে বিতরণ করা মোট ঋণ ৪০ দশমিক ৪৬ শতাংশ।

খেলাপি ঋণের বড় অংশই ব্যাংক লুট বা জালিয়াতির মাধ্যমে নেওয়া। ঋণের নামে ব্যাংক থেকে বের করা এই অর্থের বড় অংশই বিদেশে পাচার করা হয়েছে। কিছু অংশ ব্যবসার কাজে না লাগিয়ে অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হয়েছে। যে কারণে এসব ঋণ আর পরিশোধ করতে পারছে না ঋণগ্রহীতা। ফলে খেলাপি হয়েছে।

প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ব্যাংক খাতে ২০ কোটি টাকার খেলাপি গ্রাহক ছিল ২ হাজার ৬৫৩টি প্রতিষ্ঠান। গত বছরের ডিসেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫ হাজার ১১৩-তে। আলোচ্য এক বছরে শীর্ষ ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে খেলাপির সংখ্যা বেড়েছে ২ হাজার ৪৬০টি প্রতিষ্ঠান। অর্থাৎ শীর্ষ গ্রাহকদের মধ্যে ঋণখেলাপি বেড়েছে ৯২ দশমিক ৭৩ শতাংশ। একই সময়ে তাদের ঋণ যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে খেলাপি ঋণ। তবে নতুন ঋণ বিতরণের চেয়ে খেলাপি হওয়ার প্রবণতা বেশি বেড়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০ কোটি থেকে ৩০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে বিতরণ করা মোট ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৭ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি হয়েছে ১ হাজার ৫৩৩টি প্রতিষ্ঠান। তাদের কাছে খেলাপির পরিমাণ ৩৭ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা। যা তাদের কাছে বিতরণ করা মোট ঋণের ৩৫ দশমিক ৪০ শতাংশ।

৩০ কোটি টাকার বেশি থেকে ৪০ কোটি টাকা পর্যন্ত গ্রহীতাদের মধ্যে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ৮৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি হয়েছে ৯৩০টি প্রতিষ্ঠান। তাদের কাছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৩২ হাজার ৩৫৩ কোটি টাকা। যা তাদের নেওয়া মোট ঋণের ৩৮ দশমিক ৭০ শতাংশ।

৪০ কোটি টাকার বেশি থেকে ৫০ কোটি টাকার গ্রহীতাদের মধ্যে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ৭০ হাজার ১০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি হয়েছে ৬৬৩টি প্রতিষ্ঠান। তাদের কাছে খেলাপির পরিমাণ ৩০ হাজার ১৪৩ কোটি টাকা। যা তাদের নেওয়া মোট ঋণের ৪৩ শতাংশ। বড় ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি খেলাপির হার বেড়েছে ৫০ কোটি টাকার বেশি অঙ্কের ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে। এ খাতের গ্রাহকদের মধ্যে বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ ৫ লাখ ৬১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি হয়েছে ১ হাজার ৮৭টি প্রতিষ্ঠান। তাদের কাছে খেলাপির পরিমাণ ২ লাখ ৩২ হাজার ২৪ কোটি টাকা। তাদের নেওয়া মোট ঋণের ৪১ দশমিক ৩০ শতাংশই খেলাপিতে পরিণত হয়েছে।