Image description

সরাসরি ক্রয় নীতির আওতায় (ডিপিএম) দুই কোম্পানির কাছ থেকে আরও ৩ লাখ টন ডিজেল ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। বৃহস্পতিবার রাতে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটি প্রস্তাবটি অনুমোদন করে। ওই দুই কোম্পানি আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে কিছুটা সুলভ মূল্যে ডিজেল সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি)।

এই ৩ লাখ টন ডিজেলের মধ্যে হংকংভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এপি এনার্জি ১ লাখ এবং সিঙ্গাপুরভিত্তিক সুপার স্টার গ্রুপের ২ লাখ টন ডিজেল সরবরাহের প্রস্তাব রয়েছে। এর বাইরে ডিবিএস নামে আরও একটি কোম্পানি ১০ লাখ টন ডিজেল সরাসরি ক্রয় নীতির আওতায় সরবরাহ করতে সরকারের কাছে প্রস্তাব দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ওই প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তাদের কাছে ক্রয়ের উৎসের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে।

এর আগে ১২ মার্চ সরাসরি ক্রয় নীতির আওতায় সরকার ২ হাজার ৬৪ কোটি টাকা মূল্যের ৩ লাখ টন পরিশোধিত তেল আমদানির অনুমতি দিয়েছে। ক্রয়সংক্রন্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বিশেষ সভায় সরাসরি ক্রয় নীতিতে ওই তেল কিনতে অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে এ অ্যান্ড এ এনার্জি নামে একটি প্রতিষ্ঠানের অনেকটা অর্ধেক মূল্যে ১ লাখ টন ডিজেল সরবরাহ করার প্রস্তাব রয়েছে। এছাড়া পেট্রোগ্যাস নামে আরেক প্রতিষ্ঠান ২ লাখ টন ডিজেল সরবরাহ করবে। কিন্তু সেই প্রস্তাব অনুমোদন করা হলেও এখনো তেল সরবরাহ করেনি ওই দুই কোম্পানি। এমনকি তেল সরবরাহের শর্ত অনুযায়ী এখনো বিপিসিকে জামানত বা পারফরম্যান্স গ্যারান্টি পর্যন্ত দিতে পারেনি এ অ্যান্ড এ এনার্জি ও পেট্রোগ্যাস। এই প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার সরাসরি ক্রয় নীতির আওতায় আরও দুই কোম্পানি এপি এনার্জি এবং সুপার স্টার গ্রুপের প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে অনুমোদনের জন্য।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান বুধবার যুগান্তরকে বলেছেন, বেশ কয়েকটি প্রস্তাব পেয়েছে বিপিসি। এর মধ্যে ২-৩টি প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। সেগুলো আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জ্বালানি বিভাগে পাঠানো হচ্ছে।

জ্বালানি বিভাগ থেকে জানা গেছে, এপি এনার্জি প্ল্যাটস ফর্মুলায় নির্ধারিত দামে ১ লাখ টন ডিজেল সরবরাহ দেবে। সুপার স্টার গ্রুপও একই ফর্মুলায় ২ লাখ টন তেল সরবরাহ করবে। তাদের প্রস্তাবে বলা হয়েছে দুই কোম্পানি বিপিসি ওই তেল কিনলে তারা প্ল্যাটস ফর্মুলায় নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রতি ব্যারেলে ৬ ডলার করে ডিসকাউন্ট বা মূল্য ছাড় দেবে। ওই প্রস্তাব অনুযায়ী, এজন্য কোনো জাহাজ, ইনস্যুরেন্স ইত্যাদি খরচ অর্থাৎ ফ্রেইড চার্জ লাগবে না।

জ্বালানি বিভাগের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুগান্তরকে বলেন, সত্যিকার অর্থে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১৪-১৫ দিনের বেশি ডিজেল এবং ১৮-২০ দিনের বেশি অকটেন-পেট্রোল মজুত ছিল না। ইরান যুদ্ধে হরমুজ প্রণালি বন্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যে ৪০টির মতো জ্বালানি স্থাপনায় হামলার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম এখন বেশ চড়া। বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ১০৫ ডলার পর্যন্ত উঠেছে। যুদ্ধ না থামলে অপরিশোধিত তেলের দাম ২০০ ডলার পর্যন্ত উঠলে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশ বিপাকে পড়বে। তাই সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যত বেশি করে তেল মজুত করা যায়। বাংলাদেশে এখন ৩৮ দিনের তেল মজুদের মতো সক্ষমতা আছে। এই সক্ষমতা মে মাসের মধ্যে ৬০ দিন করার উদ্যোগ নিয়েছে জ্বালানি বিভাগ।

দেশে প্রতিবছর ৬৮ লাখ টনের মতো জ্বালানি তেলের চাহিদা থাকে। এর মধ্যে ডিজেলের চাহিদা ৪২ হাজার ৫৫ হাজার টন। অকটেন ৩ লাখ ৮৮ হাজার টন এবং পেট্রোল প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বুধবার সাংবাদিকদের জানান, দেশে ৩০ দিনের তেলের মজুত আছে।