Image description

খুলনার লবণচরা থানার আলোচিত শিশু জান্নাতুল মাওয়া (৪) হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে অভিযুক্ত তোতা মিয়া। বৃহস্পতিবার খুলনার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট-১ এর বিচারক মো. আসাদুর জামান আসামির জবানবন্দি রেকর্ড শেষে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। এর আগে বুধবার গভীর রাতে ঢাকার গাজীপুর কাপাসিয়া এলাকার একটি ভাসমান জাহাজ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদিকে লবণচরা এলাকার ক্ষুব্ধ মানুষ তার উপস্থিতির সংবাদ জেনে আদালত চত্বরে ভিড় করতে থাকে। তারা আসামিকে জনতার হাতে তুলে দিতে বিচারকের খাস কামরার সামনে বিক্ষোভ ও বিভিন্ন ধরনের স্ল্লোগান দিতে থাকে। পরে ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুর জামান খাস কামরা থেকে বের হয়ে ন্যায় বিচার নিশ্চিতের আশ্বাস দিলে উপস্থিত বিক্ষোভকারীরা শান্ত হয়।

তোতা মিয়া ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার পুঁটিয়াখালী এলাকার বাসিন্দা ইউসুফ আলী ব্যাপারীর ছেলে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআই’র এসআই মো. হাবিবুর রহমান জানান, ভিকটিম মাওয়ার বাবা মো. শাহ জালালের দূরসম্পর্কের আত্মীয় তোতা মিয়া। ১৯৯৭ সালে প্রথম স্ত্রী শাহিনুর আক্তার মুন্নিকে হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন আদালত। ১৯ বছর ২২ দিন জেল খেটে ২০২০ সালের ২০শে জানুয়ারি কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করে। তিনি জানান, ভিকটিম জান্নাতুল মাওয়ার পরিবারের সহায়তায় ২০২৩ সালে ২৮শে ফেব্রুয়ারি টুটপাড়া এলাকার বাসিন্দা সামাদ শেখের মেয়ে ময়না বেগমকে বিয়ে করে। এরপর তোতা মিয়া কিছুদিনের জন্য পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে গিয়ে অবস্থান করে। কিন্তু তার অনুপস্থিতিতে দ্বিতীয় স্ত্রী ময়না বেগম তোতা মিয়াকে ডিভোর্স দেয়। এ বিষয়টি সে ভালো চোখে দেখিনি। সে অনুমান করে ডিভোর্সের পেছনে মাওয়ার পরিবারের হাত রয়েছে। তাই দ্বিতীয় স্ত্রী ও মাওয়ার পরিবারকে কষ্ট দেয়ার জন্য হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করতে থাকে।

তিনি বলেন, গত ২৩শে মার্চ দুপুরে মাওয়ার মামার বিয়ে উপলক্ষে লবণচরা থানাধীন সাচিবুনিয়া স্লুইসগেটের পাশে বেড়াতে আসে। ওইদিন দুপুর ১টা ৫০ মিনিটের দিকে আইসক্রিম খাওয়ানোর কথা বলে লবণচরা থানাধীন স্লুইসগেটে নিয়ে যায়। মাওয়াকে দীর্ঘক্ষণ দেখতে না পেয়ে মা তোতা মিয়াকে ফোন দেয়। তাকে বিপরীত দিক থেকে জানানো হয় স্লুইসগেট এলাকায় তারা অবস্থান করছে। এমন সংবাদ পেয়ে মাওয়ার পরিবার সেখানে খোঁজ নিয়ে না পেয়ে পুনরায় ফোন দিলে তোতা মিয়ার মোবাইল বন্ধ পায়। পরবর্তীতে থানায় নিখোঁজ একটি জিডি করেন। হত্যার আগে মাওয়াকে নগরের বিভিন্নস্থানে নিয়ে বেড়ায় তোতা মিয়া। মাগরিবের নামাজের কিছুক্ষণ পর একটি দড়ি দিয়ে শ্বাসরোধ করে মাওয়াকে হত্যা করে। ঘটনার দিন-রাত দেড়টার দিকে তোতা মিয়ার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন দিয়ে ভিকটিমের বাবার ইমোতে ফোন দিয়ে জানানো হয় ‘হরিণটানা গেটের বাম পাশে গেলে মাওয়ার মরদেহ পাবি’।

বিষয়টি লবণচরা থানাকে অবগত করলে পুলিশ হরিণটানা গেটের বিপরীত পাশের খেজুরের ভিটার বাগান থেকে মাওয়ার মরদেহ, পায়ের জুতা এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দড়ি উদ্ধার করে পুলিশ। পরে মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করে। তিনি আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর থেকে পুলিশের পাশাপাশি খুলনা পিবিআই ছায়া তদন্ত শুরু করে। তারা উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে তোতা মিয়ার অবস্থান শনাক্ত করে। গত বুধবার রাতে মোবাইল ফোন ট্রাক করে অবস্থান নিশ্চিত হয়ে গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার গোসাইরগাঁও এলাকার একটি ভাসমান জাহাজ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর সে হত্যকাণ্ডের ব্যাপারে গুরুত্বপুর্ণ তথ্য দেয় পুলিশকে। পরবর্তীতে আদালতে স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে চাইলে দুপুর সোয়া দু’টার দিকে আদালতে হাজির করা হয়। বিকাল ৫টা ২৩ মিনিটের দিকে জবানবন্দি শেষ হলে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন আদালত।