Image description

ঝিনাইদহের হরিণাকুন্ডু উপজেলার কাপাশহাটিয়া ইউনিয়নের কুল্ল্যাগাছা ভাতুড়িয়া গ্রামে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়া নিয়ে সৃষ্ট উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় ইউনিয়ন কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম নিহত হয়েছেন। তিনি ওই গ্রামের আব্দুল লতিফ মন্ডলের ছেলে। বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় যুবদল নেতা সাইদুর রহমান জানান, বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে জামায়াত সমর্থিত লোকজন আবুল কাশেমকে পিটিয়ে হত্যা করে। তার দাবি, ঈদের আগ থেকেই গ্রাম্য রেশারেশিকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। সেই সূত্র ধরেই জামায়াত ও আওয়ামী লীগের যৌথ হামলায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

অন্যদিকে কাপাশহাটিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শরাফুদ্দৌলা ঝন্টু জানান, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পরিবারটি বিএনপি ও জামায়াতে বিভক্ত বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

নিহতের স্বজন গুলনাহার বেগম অভিযোগ করেন, কিছু লোক তার ছেলে আব্দুল আজিজকে মারধর করলে বিষয়টি বড় আকার ধারণ করে এবং পরে তা বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে রূপ নেয়। তিনি দাবি করেন, সংঘর্ষের সময় চাচার ছোড়া ইটের আঘাতে ভাতিজা আবুল কাশেম নিহত হন এবং এ ঘটনায় তার সন্তানদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

ঝিনাইদহ জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম পিন্টু অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের যৌথ হামলায় কৃষকদল নেতা নিহত হয়েছেন। এর আগেও তারা গান্না ইউনিয়নে তরু মুন্সি নামে একজনকে হত্যা করেছে। জামায়াত জেলায় গুপ্ত হত্যার রাজনীতি শুরু করেছে।

তবে হরিণাকুন্ডু উপজেলা জামায়াতের আমির বাবুল হোসেন এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে একই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মারামারি হয়। এক পর্যায়ে নিহতের চাচা নাজের মন্ডলের ইটের আঘাতে আবুল কাশেম মারা যান। এ ঘটনায় জামায়াতের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।

এ বিষয়ে হরিণাকুন্ডু থানার ওসি গোলাম কিবরিয়া বলেন, এলাকায় মারামারির খবর তিনি শুনেছেন। তবে কৃষকদল নেতা নিহত হওয়ার বিষয়টি তিনি প্রথমে ফেসবুকের মাধ্যমেই জানতে পারেন।