Image description

জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করতে পাম্পে কড়া নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একইসঙ্গে দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার কারণও চিহ্নিত করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ারও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। গতকাল সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে ‘জ্বালানি পরিস্থিতি মোকাবিলায় করণীয়’ নিয়ে বিশেষ বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ওদিকে ইরান যুদ্ধের প্রভাবে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তার প্রভাব দক্ষিণ এশিয়াতেও পড়েছে। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।

বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, ঈদের ছুটিতে ব্যাংকিং কার্যক্রম বন্ধ থাকার অজুহাত দেখিয়ে দুই-একটি পাম্প জ্বালানি দেয়া বন্ধ রেখেছে। কোনো তেলের পাম্প বন্ধ না রাখার বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। জ্বালানি থাকার পরও কেউ যাতে পাম্প বন্ধ রাখতে না পারে সেজন্য ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সূত্র জানায়, জ্বালানি তেলের সরবরাহ বিঘ্নিতের পেছনে আরেকটি কারণ হচ্ছে, মোটরসাইকেল চালকের অতিরিক্ত তেল নেয়া ও কৌশলে তা সরিয়ে ফেলা। এই প্রক্রিয়া বন্ধ করতে যাচাই বা কড়াকড়ি আরোপের চিন্তা করা হচ্ছে। বৈঠকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ছাড়াও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুর রশিদ, বেসামরিক বিমানমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, সড়ক ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।

ওদিকে গতকাল সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ে সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সারা পৃথিবীর হরমুজ প্রণালি দিয়ে যে জ্বালানি সরবরাহ হয় তার প্রভাবের প্রতিক্রিয়ার মধ্যে বাস করছে, বিশেষ করে আমাদের এই অঞ্চল। আমাদের বিদ্যুৎ মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রী অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী এখনো পর্যন্ত জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত দেননি। এমনকি পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রে জ্বালানির যে মূল্য আছে, তার সঙ্গেও আমাদের মূল্যের বেশ ব্যবধান আছে। যুদ্ধ সংকটকে মাথায় রেখে যে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে একটা মন্ত্রিপরিষদ কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তারা অন্তত দক্ষতার সঙ্গেই এই সময়কার পরিস্থিতিকে একটা সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মধ্যে এনেছেন। ফলে আমাদের এই মুহূর্তে কোনো সংকট নাই।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, পাম্প পর্যায়ে হয়তো কেউ কেউ স্টোর করার চেষ্টা করছে, আমাদের সরকার সেগুলো একটু দেখার চিন্তা করছে। আমি পাম্প মালিকদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, স্টোরেজ করার যদি প্রবণতা কারও থাকে, তারা মনে করছেন যে, দাম যেকোনো মুহূর্তে বেড়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন তেলের দাম বাড়ছে না। সুতরাং দাম যেহেতু বাড়ছে না, এই স্টোর করে রাখার প্রবণতা আসলে তাদের জন্য খুব বেশি সুবিধা হবে না।