Image description

চেক জালিয়াতি মামলায় চার বছরের কারাদণ্ড মাথায় নিয়ে দীর্ঘ ৩২ বছর ধরে ‘পলাতক’ রয়েছেন খান মোহাম্মদ ইকবাল। আদালতের খাতায় তিনি আত্মগোপনে থাকলেও বাস্তবে দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে বীরদর্পে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন এই প্রভাবশালী ব্যক্তি। আইনের তোয়াক্কা না করে প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও রহস্যজনক কারণে তাকে ধরতে পারছে না পুলিশ। 

আদালত সূত্রে জানা যায়, পাওনা টাকার বিপরীতে দেওয়া একটি চেক ব্যাংক থেকে ডিজনার হওয়ায় ১৯৯৩ সালে আসাদুজ্জামান ফারুক বাদী হয়ে ইকবালের বিরুদ্ধে মামলা করেন। সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে কিশোরগঞ্জের তৎকালীন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মিজানুর রহমান আসামি ইকবালকে ৪ বছর ৪ মাস কারাদণ্ড প্রদান করেন। রায়ের দিন ইকবাল আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন এবং এরপর থেকে তিনি আর কখনো আত্মসমর্পণ করেননি। তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ও পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে গেছেন। 

সাজা পরোয়না নিয়ে দীর্ঘদিন পলাতক থাকার বিষয়টি বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন ভৈরব থানার পরিদর্শক তদন্ত আবু তালেব। 

তিনি বলেন, “এই ব্যক্তি আত্নগোপনে থাকায় গ্রেফতার করা যাচ্ছেনা। তার বিরুদ্ধে ৪ বছরের সাজা রয়েছে। আমরা তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা করছি।”  

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “৪ বছরের সাজা নিয়ে ৩২ বছর পলাতক এটা নজিরবিহীন ঘটনা। আমরা তাকে গ্রেফতারের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।”   

জানা যায়, বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে যে কয়জন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী রয়েছেন তার মধ্যে খান মো. ইকবাল অন্যতম। শাহজালার বিমানবন্দরে খাবারের দোকানের পাশাপাশি গাড়ি ও মিট অ্যান্ড গ্রিড ব্যবসায়ও রয়েছে তার। শুধু শাহজালাল বিমানবন্দর নয় চট্রগ্রামের শাহআমানত বিমানবন্দরেও রয়েছে তার ব্যবসা। আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গলি দেখিয়ে দিব্যি প্রকাশ্য থেকেই তিনি তার সমস্ত কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। 

জানা যায়, দেনা পাওনার বিষয় নিয়ে ১৯৯৩ সালে খান মোহাম্মদ ইকবাল বাদীকে একটি চেক প্রদান করেন। পরে চেকটি ব্যাংক থেকে ডিজঅনার হলে পাওনাদার আসাদুজ্জামান ফারুক তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন।   

পরে সাক্ষ্যপ্রমাণে প্রমাণিত হওয়ায় কিশোরগঞ্জ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. মিজানুর রহমান ৪ বছর ৪ মাস কারাদণ্ড দেন ইকবালকে। বিচারের রায়ের দিন তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। 

বিচারক মো. মিজানুর রহমান মামলার রায় দেওয়ার পর তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করেন।  রায় দেওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে সাজা খাটেননি। আদালতে হাজির হতে তার বিরুদ্ধে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তিও দেওয়া হয়।  

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চিকেন এক্সপ্রেস নামের খাবার দোকান রয়েছে তার। এছাড়াও আইটি সেন্টার নামে সাইনবোর্ড দেয়া থাকলেও সেখানে ফাষ্ট ফুড আইটেম খাবার বিক্রি করা হয়। 

এছাড়াও বিমানবন্দরে বহির্গমণ কনকর্স হল এলাকায় এয়ারপোর্ট প্রোটোকল সার্ভিস নামে আরেকটি ব্যাবসা রয়েছে। আগমনীতে রয়েছে আলভি ট্রাভেল নামের পরিবহন ব্যবসা।   

এছাড়াও চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ  ও অন্যান্য সব  বিমানবন্দরে প্রোটোকল সার্ভিস ব্যবসা রয়েছে তার। বিমানবন্দরের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত তিনি। 

এ বিষয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদস্য (অপারেশনস অ্যান্ড প্ল্যানিং) এয়ার কমোডর আবু সাঈদ মেহবুব খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “আমরা এই বিষয়ে জানিনা। খোঁজ খবর নিয়ে দেখি যদি এ রকম তথ্য পাই— তবে তার বিমানবন্দরের ব্যবসা আর নতুন করে নবায়ন হবে না।”  

সাজার ব্যাপারে ব্যাপারে জানতে চেয়ে খান মো. ইকবালের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি বন্ধ থাকার কারণে তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।