ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি হত্যায় অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে হেফাজতে নিয়েছে ভারতের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনআইএ।
সোমবার (২৩ মার্চ) দুই অভিযুক্তকে হেফাজতে নিতে পশ্চিমবঙ্গের বিধাননগর মহকুমা আদালতে আবেদন করে এনআইএ। আবেদনের শুনানির সময় ফয়সাল ও আলমগীরকে ভার্চুয়ালি আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত এনআইএ’র আবেদন মঞ্জুর করেন। একইসঙ্গে ট্রানজিট রিমান্ডে দুই অভিযুক্তকে দিল্লি নিয়ে যাওয়ারও অনুমতি দেয় বিচারক।
আগের দিন একই আদালত ফয়সাল করিম ও আলমগীর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেয়। সোমবার অভিযুক্তদের হেফাজতে নেওয়ার অনুমতি পেয়ে রাতেই পশ্চিমবঙ্গের দমদম কেন্দ্রীয় কারাগারে থেকে তাদের বিমানে দিল্লিতে নিয়ে যায় এনআইএ।
আইনজীবী সূত্রে জানা গেছে, হেফাজতে নেওয়া দুই অভিযুক্তকে দিল্লিতে এনআইএ’র আদালতে হাজির করা হবে। এরপরই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তবে ভারতে গ্রেপ্তার তৃতীয় বাংলাদেশি ফিলিপ সাংমাকে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করা হয়নি বলে জানা গেছে।
এর আগে, রোববার আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হাদি হত্যার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে ফায়সাল। তার দাবি, সে ঘটনাস্থলে ছিল না। সিসিটিভি ফুটেজেও তাকে গুলি করতে দেখা যায়নি। সে হাদিকে খুন করেনি। তবে, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এসটিএফের দেওয়া বিবৃতি অনুযায়ী, গত ৭ মার্চ মধ্যরাতে ফয়সাল এবং আলমগীরকে বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বনগাঁ থেকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে তারা হাদি হত্যার সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছিল।
গত বছরের ১২ ডিসেম্বর শরিফ ওসমান হাদি ঢাকার পুরানা পল্টন এলাকায় মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি সেখানে মারা যান। এরপর পুলিশি তদন্তে ফয়সাল করিমের নাম উঠে আসে। গত ৬ জানুয়ারি ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে গোয়েন্দা পুলিশ। অভিযোগপত্রে যাদের নাম এসেছে, তাদের মধ্যে ১২ জন বাংলাদেশে গ্রেপ্তার হন। আর প্রধান দুই আসামি ফয়সাল ও আলমগীর এবং তাদের পালাতে সহায়তায় অভিযুক্ত ফিলিপ সাংমা ভারতে গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে বিচারবিভাগীয় হেফাজত রয়েছে।