Image description

সৎ মায়ের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে মায়ের কবরের পাশে বসে কান্না করছিল শিশু ছামিয়া আক্তার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন ভিডিও নজরে আসার পর এতিম শিশু ও তার সৎ মাকে ডেকে আনে কুমিল্লার লালমাই উপজেলা প্রশাসন। এ বিষয়ে ক্ষমা চেয়ে ভবিষ্যতে এমন আচরণ না করার মুচলেকা দিয়েছেন ছামিয়ার সৎমা আয়েশা আক্তার।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মা হারানো শিশু ছামিয়া তার মায়ের কবরের পাশে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ছে। আবেগঘন এ দৃশ্য স্থানীয় প্রশাসনের নজরে আসে। ঘটনাটি আমলে নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেন লালমাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে তাহমিনা মিতু। তিনি বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেন বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. লোকমান হোসেনকে।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বেলা ১১টায় শিশুটিকে ইউএনওর কার্যালয়ে হাজির করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শিশুটির সৎমা আয়েশা আক্তার। তিনি দেশবাসীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে ভবিষ্যতে এমন আচরণ না করার প্রতিশ্রুতি দেন।

ইউএনও উম্মে তাহমিনা মিতু বলেন, শিশুটির সৎমা আয়েশা আক্তারকে এক মাসের জন্য সতর্কতামূলক সময় দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে যদি পুনরায় এমন কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

 

ইউএনওর কার্যালয়ে শিশু ছামিয়া ও তার সৎ মা আয়েশা আক্তার। ছবি: এশিয়া পোস্ট
ইউএনওর কার্যালয়ে শিশু ছামিয়া ও তার সৎ মা আয়েশা আক্তার। ছবি: এশিয়া পোস্ট

 

 

এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান, উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদুল্লাহ, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান হাবিব, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রনজিত সেন রঞ্জিত, উপজেলা স্থানীয় সরকার উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ, বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. লোকমান হোসেন, লালমাই প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক মো. জয়নাল আবেদীন জয়সহ স্থানীয় সাংবাদিক এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

 

প্রশাসনের এ দ্রুত পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে শিশুটির নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ধারাবাহিক নজরদারির দাবি জানিয়েছেন তারা।