Image description

জয়পুরহাটে পুনর্বাসনের নামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের লোকজনের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ফয়সল আলিম। একইসঙ্গে চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

 

রোববার (২২ মার্চ) শহরের নিজ বাসভবনে আয়োজিত ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপি ও পাঁচবিবি উপজেলার নেতাকর্মী এবং তার সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন। তার বক্তব্যের একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

 

ফয়সল আলিম বলেন, সৎভাবে রাজনীতি করতে হবে এবং কোনো অবস্থাতেই চাঁদাবাজি বা ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় করা যাবে না। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে আওয়ামী লীগের বাড়িঘর পোড়ানো ঠেকানোর নামে অর্থ নেওয়া হয়েছে, আর এখন পুনর্বাসনের নামে একই ধরনের কর্মকাণ্ড চলছে। এ ধরনের কার্যকলাপ দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

তিনি আরও বলেন, মামলা দিয়ে ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় কিংবা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে অর্থ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ত্রাণসামগ্রী বা রেডক্রিসেন্টের সম্পদ বিক্রির ঘটনাকেও তিনি কঠোরভাবে নিন্দা জানান। তার দাবি, শহরের চকবরকত এলাকায় আওয়ামী লীগের লোকজনের ১৬টি গরু বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল।

 

 

চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, জয়পুরহাট ও পাঁচবিবিতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। সামনে স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে তিনি বলেন, চাঁদাবাজদের জনগণ প্রত্যাখ্যান করবে এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফয়সল আলিম এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘আমি বাস্তবতা তুলে ধরেছি। সত্য গোপন করে কোনো লাভ নেই।’ দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, ‘দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশনা স্পষ্ট—চাঁদাবাজি বা টেন্ডারবাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

ফয়সল আলিম সাবেক মন্ত্রী আব্দুল আলিমের ছেলে। তিনি সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়পুরহাট-১ আসনে দলীয় মনোনয়ন চাইলেও তা পাননি। ওই আসনে বিএনপির প্রার্থী মাসুদ রানা প্রধান পরাজিত হন। পরে তাকে জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।