সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে শরীয়তপুরের ৩০ গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মুসল্লি পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছেন। তারা সবাই জেলার নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর দরবার শরিফের অনুসারী।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সকাল ১০টায় নড়িয়ার সুরেশ্বর দরবার শরিফ মাঠে অনুষ্ঠিত হয় জেলার প্রধান ও সর্ববৃহৎ ঈদের জামায়াত। এতে অংশ নেন দরবার শরিফের ভক্ত, অনুসারী ও স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। নামাজ আদায় শেষে দেশ, জাতি এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
দরবার শরিফ সূত্রে জানা যায়, সুফি সাধক জান শরিফ শাহ সুরেশ্বরীর প্রতিষ্ঠিত সুরেশ্বর পাক দরবার শরিফকে কেন্দ্র করে সারা দেশে কয়েক লাখ ভক্ত ও অনুসারী রয়েছে। তাদের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করে আসছেন।
ঐতিহ্য অনুযায়ী, ১৯২৮ সাল থেকে সুরেশ্বর দরবার শরিফের অনুসারীরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা রাখেন ও ঈদ উদযাপন করেন। এর ধারাবাহিকতায় এবারও শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর, কেদারপুর, চাকধর, চণ্ডীপুরসহ অন্তত ৩০টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ একদিন আগে ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভিন্ন সময়ে ঈদ উদযাপন হলেও এলাকায় সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।