Image description

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের ভিড় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় যাত্রী হয়রানি ঠেকাতে মাঠে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় এক ব্যতিক্রমী ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিজেই পড়েন অতিরিক্ত ভাড়া দাবির মুখে—যা পরে গড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে।

বুধবার (১৮ মার্চ) দৌলতদিয়া বাসস্ট্যান্ড ও ফেরিঘাট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাথী দাস। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় পরিচালিত এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল ঈদযাত্রায় যাত্রীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ করা। অভিযান চলাকালে মাহেন্দ্র স্ট্যান্ডে দুই চালক ইউএনওকে সাধারণ যাত্রী মনে করে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা দাবি করেন। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে আমলে নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, একই সময়ে বাসস্ট্যান্ড ও ঘাট এলাকায় কয়েকজন যাত্রীর কাছ থেকেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের কাছ থেকে নেওয়া বাড়তি টাকা ফেরত দেওয়া হয়। পাশাপাশি মাহেন্দ্র স্ট্যান্ডের দুই চালককে অতিরিক্ত ভাড়া দাবির দায়ে দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ১৮৮ ধারায় ৫০০ টাকা করে মোট ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

মাহেন্দ্র স্ট্যান্ডের দুই চালককে অতিরিক্ত ভাড়া দাবির দায়ে জরিমানা করা হয়। ছবি : সংগৃহীত
মাহেন্দ্র স্ট্যান্ডের দুই চালককে অতিরিক্ত ভাড়া দাবির দায়ে জরিমানা করা হয়। ছবি : সংগৃহীত

এদিকে ঈদকে কেন্দ্র করে দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় যাত্রী চাপ বাড়লেও প্রশাসনের এমন তৎপরতায় স্বস্তি ফিরছে সাধারণ মানুষের মাঝে।

ইউএনও সাথী দাস বলেন, যাত্রীদের কাছ থেকে নেওয়া অতিরিক্ত অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত দেওয়া হয়েছে। কোনোভাবেই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বরদাস্ত করা হবে না। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে ঘাট এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা অব্যাহত থাকবে।