স্টার লাইন পরিবহনের চালক মো. আজাদ আলী মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দিবাগত রাতে রাজধানীর কুড়িল বিশ্বরোডের যাত্রীছাউনির পাশে গাড়ি পার্ক করেন। একটু পরেই পাশে এসে থামে সাদা রঙের একটি পিকআপ ভ্যান। কিছুক্ষণ পর তেল পড়ার শব্দ শুনতে পান। গাড়ি থেকে নেমে দেখন গাড়ির ট্যাংকির মুখ খোলা এবং ট্যাংকিতে তেল নেই।
ততক্ষণে আজাদ বুঝতে পারেন যে তার গাড়ি থেকে পাইপ দিয়ে তেল বের করে নিয়েছেন পাশে দাঁড়ানো পিকআপ ভ্যানে থাকা দুজন।
জানা গেছে, তেল চোর চক্র এখন সক্রিয় রাজধানীতে। চুরি করা তেল রাখার জন্য পিকআপ ভ্যানে রাখা হয় প্লাস্টিকের ড্রাম। অল্প সময়ে বেশি তেল বের করে নেওয়ার জন্য বসানো হয়েছে মোটর। পার্ক করা গাড়ি থেকে পাইপ দিয়ে মোটরের মাধ্যমে দ্রুত তেল বের করে সটকে পড়ে চক্রটি।
আজাদ আলী যখন দেখেন তার গাড়ির পাশে থাকা পিকআপ ভ্যানটি থেকেও তেল পড়ছে, তখন পিকআপ ভ্যানটি দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। বিষয়টি সন্দেহ হলে পিকআপ ভ্যানটিকে ধাওয়া করেন তিনি। রাজউক মার্কেট এলাকায় যানজটে পড়লে পিকআপটি আটকের চেষ্টা করেন আজাদ আলী ও তার সহকারী মো. আব্দুর রহমান।
পরে বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে চোর চক্রের দুই সদস্য মো. ফয়সাল ও কামাল হোসেন সহকারী আব্দুর রহমানকে বেদম মারধর করেন। এ সময় তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে ফয়সাল ও কামালকে আটক করে। পরে তাদের টহল পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ ঘটনায় বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুরে খিলক্ষেত থানায় মামলা করেন আজাদ আলী। পরে পুলিশ ফয়সাল ও কামালকে গ্রেপ্তার দেখায়।
মামলার এজাহার থেকে জানা গেছে, গ্রেপ্তার ফয়সাল মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার আদেরা এলাকার বাসিন্দা এবং কামাল হোসেন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার দক্ষিণ দামারদী এলাকার বাসিন্দা।
তাদের পিকআপ ভ্যানটিও আটক করা হয়। পিকআপ ভ্যানে পাওয়া যায় দুটি বড় প্লাস্টিকের ট্যাংক, যার একটিতে ছিল চুরি করা ৩০০ লিটার ডিজেল। পিকআপ ভ্যানে সংযুক্ত করা একটি মোটরও রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে খিলক্ষেত থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) একাধিকবার ফোন করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।
তবে খিলক্ষেত থানার তদন্ত কর্মকর্তা আশিক এশিয়া পোস্টকে বলেন, গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে তেল চোর চক্রের বাকি সদস্যদের ধরতে পুলিশ কাজ করছে।