Image description

রমজান মাস গুনাহ মাফের মাস। তাকওয়া অর্জনের মাস। আল্লাহকে খুশি করার মাস। আল্লাহর অফুরন্ত রহমত পাওয়ার শুভক্ষণ। রমজান মাস ইবাদতের বসন্ত কালও। রমজানের মতো ইবাদতের মহাসুযোগ অন্য কোনো মাসে পাওয়া যায় না। এ মাসের একটি নেক আমলের বিপরীতে সত্তরটি সওয়াব পর্যন্ত পাওয়া যায়। রোজাই একমাত্র ইবাদত, যার প্রতিদান আল্লাহ নিজে দেন। হাদিসে কুদসিতে আছে, আল্লাহ বলেন, ‘মানুষের প্রতিটি কাজ তার নিজের জন্য, কিন্তু রোজা এর ব্যতিক্রম—তা শুধু আমার জন্য, আমিই এর প্রতিদান দেব।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১১৫১)

 

মুমিনরা এ মাস পাওয়াকে নিজের জীবনের বড় সৌভাগ্য মনে করেন। তারা এ মাসে আমল-ইবাদত বাড়িয়ে দেন। জীবনের সব কলুষতা থেকে নিজেকে মুক্ত করেন। নিজেকে আল্লাহর আরও কাছাকাছি নিয়ে যান। কিন্তু এক শ্রেণির মানুষ এমন আছে, যারা এ মাস পেয়েও নিজেকে আমল-ইবাদতের জন্য উজাড় করে দেন না। আল্লাহর কাছে নিজেকে সমর্পণ করেন না। নিজের গুনাহ মাফ করাতে পারেন না। নিজের ভেতরে আল্লাহর ভীতি তৈরি করতে পারেন না। হাদিসে তাদের হতভাগা বলা হয়েছে। তাদের ধ্বংস কামনা করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘দুর্ভাগা ওই ব্যক্তি এবং ধ্বংস হোক ওই মুসলমান! যে রমজানের রোজা পেল কিন্তু নিজের অতীত জীবনের গুনাহ ক্ষমা করাতে সক্ষম হলো না।’ (ইবনে হিব্বান, হাদিস: ৯০৭)

 

আরেক হাদিসে আছে, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) একদিন মসজিদের মিম্বারে আরোহণের সময় তিনবার ‘আমিন’ বলেছিলেন। এর কারণ হিসেবে তিনি জানান, জিবরাইল (আ.) তিনটি বিশেষ দোয়া করেছিলেন। প্রথমত, ধ্বংসজ হোক সে ব্যক্তি, যে রমজান মাস পেয়েও নিজের গুনাহ মাফ করাতে পারল না। দ্বিতীয়ত, ধ্বংস হোক সে ব্যক্তি, যার সামনে নবীজি (সা.)-এর নাম নেওয়া হলো অথচ সে দরুদ পড়ল না। তৃতীয়ত, ধ্বংস হোক সে ব্যক্তি, যে বৃদ্ধ বাবা-মাকে পেয়েও তাদের সেবা করে জান্নাত নিশ্চিত করতে পারল না।’ (সুনানে বায়হাকি, হাদিস : ১৫৭২)

 

হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর সতর্ক বাণীটি গভীর মনোযোগ দিয়ে বারবার পড়া ও চিন্তা করা উচিত। ইবাদতের বসন্তকাল ও গুনাহ মাফের সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও যদি আমরা গুনাহ ক্ষমা করিয়ে নিতে না পারি, তাহলে আমাদের চেয়ে বড় হতভাগা আর কে আছে।

 

আরও ভয়াবহ বিষয় হলো, যে রমজান পেয়েও নিজের গুনাহ মাফ করাতে পারল না, তার জন্য ধ্বংস চেয়েছেন জিবরাইল (আ.)। জিবরাইল (আ.)-এর ধ্বংস কামনায় ‘আমিন’ বলেছেন মহানবী (সা.)। এই হতভাগার দলে যদি নিজের নাম পড়ে যায়, তাহলে আমাদের ধ্বংস তো অনিবার্য।

 

একটু চিন্তা করা উচিত, পবিত্র এ মাসে কত দিন, কত রাত অতীত জীবনের গুনাহ মাফের জন্য আল্লাহর কাছে দু হাত তুলেছি? কতক্ষণ রোনাজারি করেছি মোনাজাতে কিংবা জায়নামাজে? রমজানের সবগুলো রোজা কি রাখতে পেরেছি? নিজেকে গুনাহ থেকে বিরত রাখতে পেরেছি? হালালভাবে জীবন ধারণ করে হারাম থেকে কি বেঁচে থাকতে পেরেছি?

 

এখনো রমজানের দু-তিন দিন সময় বাকি আছে। জীবনের সব ব্যস্ততা ভুলে চলুন আল্লাহর ডাকে সাড়া দিই। আমলহীন ফেলে আসা দিনগুলোর জন্য অনুতপ্ত হই। গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই। আল্লাহর করুণা ভিক্ষা চাই। বেশি বেশি পড়ি—

 

اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউয়ুন, তুহিব্বুল আফওয়া, ফাফু আন্নি।

 

অর্থ: হে আল্লাহ, আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা পছন্দ করেন। তাই আমাকে ক্ষমা করুন। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৩৫১৩)