রমজানের শেষ দশকে লাইলাতুল কদর মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ে এক গভীর প্রত্যাশার রাত। এই রাত মানব ইতিহাসে রহমত, ক্ষমা ও আধ্যাত্মিক পুনর্জাগরণের প্রতীক। আল্লাহর পক্ষ থেকে এই রাতকে অনন্য মর্যাদায় ভূষিত করা হয়েছে, যা সময়ের সাধারণ পরিমাপে মূল্যায়নযোগ্য নয়। এই রাতে মহান আল্লাহ তায়ালার নৈকট্য লাভের উত্তম রজনী। মুসল্লিরা ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে রাত অতিবাহিত করেন।
পবিত্র রজনী লাইলাতুল কদরের সন্ধানে মক্কার মসজিদুল হারামে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ঢল নামে। মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় রোববার (১৫ মার্চ) দিবাগত রাতে পবিত্র কাবা প্রাঙ্গণ এক বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
গতকাল রোববার ইফতারের পরপরই পুরো হারাম শরিফ এলাকা কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করে জিকির-আজকার, নফল নামাজ ও কোরআন তিলাওয়াতে মশগুল থাকেন মুসল্লিরা। ওমরাহ পালনকারী ও স্থানীয় মুসল্লিরা একত্রে এশা ও তারাবিহর নামাজ আদায় করেন।
মসজিদুল হারামের ইমাম ও মুখপাত্র শেখ আবদুল রহমান আল সুদাইস জানান, ওমরাহ যাত্রী ও দর্শনার্থীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মুসল্লিদের সুরক্ষা এবং নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য হারাম শরিফ এলাকায় বিপুল অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। বিশাল এই জনসমুদ্র সামলাতে আধুনিক প্রযুক্তি ও স্বেচ্ছাসেবী দলও নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।
ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের কাছে লাইলাতুল কদর অত্যন্ত বরকতময় ও মহিমান্বিত একটি রাত। পবিত্র আল কোরআন এই রাতেই মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর ওপর নাজিল হয়েছিল। মাহে রমজানের শেষ ১০ দিনের বিজোড় রাতগুলোতে মুমিন মুসলমানরা পরম আকুলতায় এই হাজার মাসের চেয়েও সেরা রাতটি তালাশ করেন।
শীর্ষনিউজ