স্মার্টফোনের জগতে আইফোনের অবস্থান সব সময়েই আলাদা। যথেষ্ট ব্যয়বহুল ডিভাইস হওয়ার পরও, প্রতি বছরই নতুন আইফোন বাজারে আসার সাথে সাথেই হুমড়ি খেয়ে পড়েন আগ্রহী ক্রেতারা। চলতি বছরে অবশ্য এর এমন এক সংস্করণ আসার খবর রয়েছে, যেটি আইফোনের এক নতুন অধ্যায় সৃষ্টি করতে চলেছে। প্রযুক্তি বাজারে গরম খবর—ফোল্ড, বা ভাঁজ করা স্মার্টফোন নিয়ে আসছে অ্যাপল। এর নাম নিয়ে বিভিন্ন ধারণা থাকলেও আপাতত ‘আইফোন আলট্রা’ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। রয়েছে। দামও হবে অন্যান্য ‘আইফোন’ এর চেয়ে অনেকটাই বেশি।
প্রতি বছর জনপ্রিয় ব্র্যান্ডগুলোর নতুন মডেল বাজারে আসার আগ দিয়ে বিভিন্ন গুজব, ফাঁস হওয়া ছবি বা টেকনোলজি বা স্পেসিফিকেশন নিয়ে খবর আসতেই থাকে। আর এ তালিকায় আইফোন বলতে গেলে সবার উপরে থাকে। এবারে কিন্তু এ খবর শুধুমাত্র আইফোনে নয়, অ্যাপল তার অন্যান্য কিছু প্রোডাক্টেও এই ‘আলট্রা’ ফিচার যুক্ত করবে। এর মধ্য ম্যাকবুক এবং এয়ারপডসও রয়েছে। এগুলো মূলত প্রযুক্তিপ্রেমী ও পেশাদার ব্যবহারকারীদের সবচেয়ে উন্নত ফিচার ও পারফরম্যান্স দেওয়ার কথা চিন্তায় রেখে তৈরি করা হচ্ছে। বলাই বাহুল্য, ‘আলট্রা’ মডেলগুলো বর্তমান ‘প্রো’ এর চেয়েও উচ্চমানের হবে এবং দামে আরও বেশি হতে পারে।
ফোল্ডেবল স্মার্টফোন প্রযুক্তিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অ্যাপলের বহু আগেই কাজ করেছে। উন্নতির পাশাপাশি বিভিন্ন সমস্যাও অন্যান্য ফোনগুলোয় হয়েছে। অ্যাপল সেসব বিষয় বিবেচনায় রেখে নতুন মডেলে ব্যাটারির স্থায়িত্ব, ডিভাইসের টেকসই হওয়া, নিখুঁত স্ক্রিন ইত্যাদি যদি নিশ্চিত করতে পারে; তাহলে ফোল্ডেবল স্মার্টফোন বাজারে বড় অবস্থান পাবে এটি। আরও কী কী প্রযুক্তির চমক এতে থাকবে, সে বিষয়ে এখনো টেক ইন্ডাস্ট্রির বিভিন্ন ‘ধারণা’ থাকলেও, চূড়ান্ত কিছু বলা যাচ্ছে না।
অ্যাপল দীর্ঘদিন ধরে ধীরে ধীরে মূল্য নির্ধারণ কৌশল ব্যবহার করে আসছে। অর্থাৎ বিভিন্ন স্তরের পণ্য দিয়ে ব্যবহারকারীদের একটু বেশি খরচ করে উন্নত মডেলে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। বাজারের গুঞ্জন অনুযায়ী, আইফোন আলট্রাতে থাকতে পারে ফোল্ডেবল ডিজাইন, বড় স্ক্রিন রেশিও এবং উন্নত মাল্টিটাস্কিং সুবিধা। প্রাথমিকভাবে এর সম্ভাব্য দাম প্রায় ২,৪০০ ডলার থেকে শুরু হতে পারে। তারপর হয়তো স্টোরেজ বা অন্যান্য ফিচার সাপেক্ষে দাম আরও বাড়বে। সে হিসেবে বাংলাদেশে প্রথমদিকে এটি কিনতে অন্তত ৩ লক্ষ টাকারও বেশি খরচা করতে হবে ক্রেতাদের। ‘আলট্রা’ মডেলটি চলে এলে বর্তমানের প্রিমিয়াম সংস্করণ ‘প্রো ম্যাক্স’ মধ্যম স্তরের বিবেচিত হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, আলট্রা সিরিজ চালুর মাধ্যমে অ্যাপল প্রিমিয়াম বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করতে চাইছে। একই সঙ্গে নতুন প্রযুক্তি পরীক্ষা করার সুযোগও পাবে কোম্পানিটি। একসময় স্টিভ জবস অ্যাপলের পণ্যের তালিকাকে খুব সহজ কাঠামোয় সাজিয়েছিলেন—সাধারণ ভোক্তা ও পেশাদার ব্যবহারকারী; ডেস্কটপ ও পোর্টেবল ডিভাইস। কিন্তু এখন অ্যাপলের পণ্যের তালিকা অনেক বড় ও বৈচিত্র্যময়। বিভিন্ন স্তরের পণ্য এনে অ্যাপল বাজারের বিভিন্ন ধরনের গ্রাহকের চাহিদা পূরণ করার চেষ্টা করছে।
সূত্র: গিকি-গ্যাজেটস