Image description

সরকারি গাড়ির মধ্যে নারী নিয়ে আপত্তিকর অবস্থায় জনতার হাতে আটক হন পুলিশ সুপার (এসপি) রাজিব ফারহান। সম্প্রতি রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজের পেছনে রাস্তার পাশে রাতে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) এই কর্মকর্তা হাতেনাতে ধরা পড়ার পর উত্তেজিত জনতার কাছে মাফ চান। তবে উপস্থিত জনতা পুরো ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। এ সময় নিজেকে পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয় দিলেও নিজের নাম ‘সোহান’ ও ওই নারী তার স্ত্রী উল্লেখ করে আটককারীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন।

 

জনতার হাতে ধৃত ব্যক্তির মুখাবয়ব, পোশাক, ঘড়ি, হাতের রিং, ব্যবহৃত গাড়িসহ অন্যান্য তথ্য ফ্যাক্টচেকিংয়ের মাধ্যমে তিনি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে কর্মরত পুলিশ সুপার (পিবিআই) রাজি ফারহান বলে নিশ্চিত হয়েছে এশিয়া পোস্ট। ঘটনা কয়েকদিন আগের বলে জানা গেছে।

 

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাজিব ফারহান। এশিয়া পোস্টের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, ‘এমন একটি ভিডিও আমার কাছেও এসেছে। তবে ভিডিওটি আমার না। অন্য কারও হবে। একই সঙ্গে ডিওটি কয়েক সপ্তাহ আগের তিনিও পেয়েন বলে জানান।

 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাজিব ফারহান ২৮তম বিসিএসের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন। ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর প্রশাসনিক রদবদলের অংশ হিসেবে তাকে পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) থেকে ঢাকা রেঞ্জ কার্যালয়ে বদলি করা হয়। পরে তাকে পিবিআইতে পাঠানো হয়।

 
 

 

জানা গেছে, গত ১ মার্চ রাত সাড়ে ৮টার দিকে ইডেন মহিলা কলেজের পেছনের রাস্তায় সাদা রঙের একটি প্রাইভেটকারে রাজিব ফারহান ও ওই নারীকে গাড়ির মধ্যে অনেকটা বিবস্ত্র অবস্থায় আটক করে স্থানীয় ও পথচারীরা। এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীও ছিলেন বলে ভিডিওর কথোপকথনে নিশ্চিত হওয়া গেছে। আটকের পর তাদের গাড়ির গ্লাস খুলতে বললে কিছু সময় পর গ্লাস খুলেন রাজিব ফারহান। সেই ভিডিওতে তখনো তাদের অর্ধেক পোশাক খোলা দেখা যায়।

 

এ সময় রাজিব ফারহান নিজেকে পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয় দিলে আটককারীরা তাদের পূর্ণ পরিচয় জানতে চান ও পরিচয়পত্র দেখতে চান। তবে পরিচয়পত্র দেখাতে পারেননি তিনি। নিজের নাম বলেন ‘সোহান’। গাড়িতে থাকা নারীর নাম বলেন ‘সোমা’। পরে তাদের গাড়ি থেকে নামতে বললে রাজিব ফারহান নেমে আসেন। তখন তার টি-শার্ট উল্টো করে পরা দেখা যায়।

 

 

রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজের পেছনে রাস্তার পাশে রাতে উত্তেজিত জনতার হাতে আটকের পর।
রাজধানীর ইডেন মহিলা কলেজের পেছনে রাস্তার পাশে রাতে উত্তেজিত জনতার হাতে আটকের পর।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঘটনার সময় যে সাদা রঙের প্রাইভেটকারের মধ্যে রাজিব ফারহানসহ ওই নারীকে আটক করা হয় সেই গাড়িটির নম্বর ঢাকা মেট্রো গ-৪৫-২৯৬৪। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়, এই গাড়িটি ডিআইজি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশ পিবিআইর নামে রেজিস্ট্রেশন করা। উল্লেখ, পিবিআইর একাধিক গাড়ি এই নামে নিবন্ধিত রয়েছে।

 

পিবিআইয়ে খোঁজ নিয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে, সেখানে কর্মরত কর্মকর্তাদের প্রত্যেকের নিজের নামে কোনো গাড়ি রেজিস্ট্রেশন করা হয় না। সহকারী পুলিশ সুপার থেকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জন্য একটি করে গাড়ি মৌখিকভাবে বরাদ্দ দেওয়া থাকে। রাজিব ফারহান পিবিআইয়ে যোগ দেওয়ার পর থেকে ঢাকা মেট্রো গ-৪৫-২৯৬৪ নম্বরের গাড়িটিই ব্যবহার করছেন।

 

ঘটনার সময় ধারণকৃত ভিডিওতে দেখা যায়, আটককারীরা রাজিব ফারহানকে নানাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। সরকারি কর্মকর্তা হয়ে এমন অনৈতিক কাজ করছেন সেজন্য তাচ্ছিল্য করছেন। এ সময় রাজিব ফারহানের হাতে ওয়াকিটকি দেখে তারা নিশ্চিত হন তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোক। তখন তাকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আমি পুলিশের লোক। পুলিশ হেডকোয়ার্টারে কর্মরত আছি।