Image description
বাজারে অসাধু চক্রের কারসাজি

ঈদ এলেই আনন্দে মেতে ওঠেন সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। নতুন পোশাকের পাশাপাশি পরিবারের জন্য ভালো খাবারের আয়োজন করতে বাড়তি কেনাকাটায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন সবাই। আর প্রতিবছর এই বাড়তি চাহিদাকেই পুঁজি করে বাজারে সক্রিয় হয়ে ওঠে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী। কারসাজি করে ঈদের আগেই বাড়ানো হয় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ইতোমধ্যে পোলাওর চাল কেজিপ্রতি ২০-৩০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার পরও ৫০-৬০ টাকা বাড়তি হয়েছে ব্রয়লার মুরগির দাম। একই সঙ্গে কেজিতে ৫০ টাকা বাড়িয়ে গরুর মাংস ৮০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। অস্থির ভোজ্যতেলের বাজার। পাশাপাশি দুধ, চিনি, সেমাই, কিসমিসসহ মসলাপণ্যের দামও বাড়তি। ফলে উৎসবের আনন্দের মাঝেও ঈদ ঘিরে বাজারে পণ্য কিনতে গিয়েও ঠকছেন ভোক্তা।

রোববার রাজধানীর জিনজিরা বাজার, নয়াবাজার ও রায়সাহেব বাজার ঘুরে খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এদিন প্রতি কেজি পোলার চাল মানভেদে বিক্রি হয়েছে ১৫০-১৬০ টাকা। যা দুই সপ্তাহ আগে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রতি কেজি পোলাওর চালে ২০-৩০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। বাজারে প্রতি কেজি মুগ ডাল বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ১৮০ টাকা। যা দুই সপ্তাহ আগেও সর্বোচ্চ ১৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সে ক্ষেত্রে কেজিপ্রতি ২০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। মাংসের মধ্যে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ২৩০ টাকা। যা দুই দিন আগেও ২২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এক সপ্তাহ আগে ১৮০-১৯০ টাকা ও এক মাস আগে ১৭০-১৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। পাশাপাশি প্রতি কেজি কক মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা। প্রতি কেজি লেয়ার ৩৬০ টাকা ও দেশি মুরগি ৭৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি কেজি গরুর মাংস ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা আগে ৭৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রতি কেজি খাসির মাংস বিক্রি হয়েছে ১২০০ টাকা।

রাজধানীর কাওরান বাজারে ঈদ ঘিরে নিত্যপণ্য কিনতে আসা মো. সালাউদ্দিন বলেন, বাজারে ক্রেতার কখনো স্বস্তি নেই। বছরের একেক সময় একেক অজুহাতে পণ্যের দাম অস্বাভাবিক থাকে। অসাধু ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম বাড়িয়ে ক্রেতাকে নাজেহাল করে তোলে। রোজা এলে, ঈদ এলে বিক্রেতারা আরও মরিয়া হয়ে ওঠে। বাড়ায় পণ্যের দাম। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। প্রতিবছরের মতো এবারও একই অবস্থা হয়েছে। এসব দেখার যেন কেউ নেই।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন যুগান্তরকে বলেন, রোজা-ঈদসহ কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠান এলে দেশে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী অতি মুনাফা করতে মরিয়া হয়ে ওঠে। এবারও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। ভোক্তাকে স্বস্তি দিতে হলে সংশ্লিষ্টদের কঠোরভাবে বাজার মনিটরিং করতে হবে। তিনি বলেন, ভোক্তার স্বার্থ সংরক্ষণে আইন আছে। সেই আইন বাস্তবায়ন করতে হবে। এতে যদি ভোক্তা কিছুটা সুফল পান।

খুচরা বাজার ঘুরে ও বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে আরও জানা গেছে, বাজারে গুঁড়া দুধের মধ্যে প্রতি কেজি ডানো ৮৬০ টাকা, ডিপ্লোমা ৯২০ টাকা, ফ্রেশ ৮৯০ টাকা ও মার্কস ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি ২০০ গ্রামের প্যাকেটজাত লাচ্চা সেমাই বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা। যা আগে ৪৫ টাকাতেও পাওয়া গেছে। আর ২০০ গ্রামের প্যাকেটজাত চিকন সেমাই বিক্রি হয়েছে ৪৫ টাকায়। প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ১০৫ টাকা। যা ৭ দিন আগেও ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা। রসুন প্রতি কেজি সর্বোচ্চ ২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি হলুদ বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৪০০ টাকা। আদা কেজিপ্রতি সর্বোচ্চ ২২০ টাকা।

এদিকে ৯ মার্চ ভোজ্যতেলের সার্বিক সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এ সময় তিনি বলেন, বাজারে ভোজ্যতেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তেলের দাম এক ফোঁটাও বাড়ার সম্ভাবনা নেই। কিন্তু বাজারে সংকট দেখিয়ে ভোজ্যতেলের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। এক লিটারের সয়াবিন তেলের বোতলের এমআরপি ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকা আর পাঁচ লিটারের এমআরপি ৯২০ থেকে ৯৫৫ টাকা। ৭ ডিসেম্বর থেকে এ দর চলছে। সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে, গত এক সপ্তাহে পাঁচ লিটারের এক বোতল সয়াবিন তেলের সর্বনিম্ন দাম ৩০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৯৫০-৯৫৫ টাকায়। খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে বেড়েছে ৭ থেকে ১০ টাকা। বিক্রি হচ্ছে প্রতি লিটার ১৮৫-১৯৩ টাকা দরে। অন্যদিকে খোলা পাম তেলের দাম বেড়েছে ৬ থেকে ১৩ টাকা পর্যন্ত। এই তেল খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৬৩-১৬৮ টাকা দরে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আব্দুল জব্বার মন্ডল বলেন, রোজা ও ঈদ ঘিরে অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা সার্বিকভাবে বাজারে তদারকি অব্যাহত রেখেছে। রাজধানীতে প্রতিদিন কয়েকটি টিম বাজারে তদারকি করেছে। প্রতিটি বিভাগীয় অফিস থেকেও কর্মকর্তারা বাজারে কঠোরভাবে তদারকি করছেন। অনিয়ম পেলেই আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।