শেরপুরের নকলায় মোবাইল হারানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে সজীব (১৪) নামে এক কিশোরকে ডেকে নিয়ে নৃশংসভাবে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় চারদিন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকার পর তার মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (১৪ মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওই কিশোরের মৃত্যু হয়।
নিহত সজীব উপজেলার ৭নং টালকি ইউনিয়নের বিবিরচর গ্রামের ফারহানের একমাত্র ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে একই গ্রামের রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে রিফাতসহ আরও ৩-৪ জন সজীবকে আড্ডা দেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নেয়। পরে মোবাইল হারানো নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে সজীবের ওপর ধারাল অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। হামলার সময় ধারাল অস্ত্রের আঘাতে ওই কিশোরের শরীর থেকে কলিজার একটি অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়রা তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে আইসিইউতে চারদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার (১৪ মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
সজীবের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার স্বজনরা। এ সময় তার মা চিৎকার করে বলেন, ‘আমার সজীবরে নিয়া যাইতাছিগা, তোমরা সবাই আমার সজীবরে দেখবার লাইগা আসো, তোমরা আর ফোন দিও না’।
টালকি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও নকলা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক খোরশেদুর রহমান জানান, সজীবের মরদেহ আনার জন্য পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী তৈবুর রহমান বলেন, সমাজে এমন নৃশংস ঘটনার পেছনে সামাজিক ও পারিবারিক অবক্ষয় দায়ী।
নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিপন চন্দ্র গোপ জানান, ঘটনার পর গত ১১ মার্চ শেরপুর সদর সার্কেলের কর্মকর্তাসহ পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় নকলা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।