Image description

আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছে ঘরমুখো মানুষ। ঈদে সরকার ঘোষিত ছুটি শুরু না হলেও বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মানুষজন পরিবারের নারী-শিশুসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা আগেই ছাড়ছেন রাজধানী। ঈদযাত্রায় ভিড় আর ভোগান্তি এড়াতে আগেভাগেই গ্রামের বাড়ি যাচ্ছেন তারা। গতকাল ঈদযাত্রার প্রথমদিন তেমন ভিড় ছিল না রেলস্টেশনে। সড়কপথেও চাপ ছিল না, বাসস্ট্যান্ডে ছিল ঢিলেঢালা ভিড়।

রেলপথে ঢাকা ছাড়তে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ে কমলাপুর রেলস্টেশনে। শুক্রবার কমলাপুর রেলস্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, বাড়ি ফেরা মানুষের মধ্যে বেশির ভাগই পরিবারের বাসায় নারী, শিশু। স্টেশনে দেখা গেছে, কিছুক্ষণ পরপর প্রধান ফটক পার হয়ে যাত্রীরা প্ল্যাটফরম এলাকায় প্রবেশ করছেন। তবে ভিড় ছিল না। কমলাপুর রেলস্টেশনে এবারো তিন ধাপে চেকিং ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ভেতরে প্রবেশের আগে টিকিট যাচাই করা হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালন করছেন টিটি ও রেলওয়ের কর্মীরা। প্ল্যাটফরমগুলোতে যাত্রীরা কাঙ্ক্ষিত ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছিলেন।

কোনোরকম ঝুঁকি এড়াতে অধিকাংশ যাত্রীই নির্ধারিত সময়ের আগেই স্টেশনে পৌঁছেছেন। প্রতিবারের মতো ঈদ ঘনিয়ে আসলে তীব্র ভিড়ের ফলে ভোগান্তি বাড়ে। তাই আগেই পরিবারের শিশু ও নারীদের পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে বাড়িতে। কর্মসূত্রে ঢাকায় থাকায় থাকা ব্যক্তিরা নিজেরা যাবেন ঈদের ঠিক আগ মুহূর্তে।

চিলাহাটি এক্সপ্রেসের যাত্রী মমিনুল ইসলাম বলেন, লম্বা ছুটি পেয়েছি। তাই আগেই বাড়ি চলে যাচ্ছি। ঈদের আগে মা ও বোনকে নিয়ে বাড়ি ফিরছি। টিকিট আগেই কেটে রেখেছিলাম। বাবার সরকারি ছুটি শুরু হলে ১৭ তারিখে আসবেন। ঈদের আগের ভোগান্তি এড়াতেই আমরা এখনই যাচ্ছি। জয়ন্তিকা এক্সপ্রেসে পরিবারের সদস্যদের তুলে দিতে স্টেশনে এসেছিলেন সরকারি চাকুরে ফাহিম হাসান। ফাহিম বলেন, ঈদের আগে ভিড় এড়াতে আজই স্ত্রী ও সন্তানকে বাড়ি পাঠিয়ে দিচ্ছি।

শুক্রবার বেলা সাড় ১১টার দিকে সড়ক যোগাযোগ ও রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম কমলাপুর রেলস্টেশন পরিদর্শন শেষে বলেন, স্টেশনে এসে দেখলাম এখন পর্যন্ত সবকিছু ঠিকঠাক আছে। অনলাইন টিকিটে ব্যাপক চাপ ছিল; প্রায় ৩৭ লাখ মানুষ টিকিট কিনতে চেয়েছেন। তবে আমাদের সক্ষমতা অনুযায়ী আমরা ৩৬ হাজারের মতো টিকিট বিক্রি করতে পেরেছি। মন্ত্রী বলেন, এখন পর্যন্ত ২১টি ট্রেন স্টেশন ছেড়ে গেছে এবং প্রায় সবগুলোই নির্ধারিত সময়ে ছেড়েছে। মাত্র দু’টি ট্রেন ৪০ মিনিটের মতো বিলম্বে ছেড়েছে। আমি যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেছি, তারা খুশি।

ওদিকে শুক্রবার দুপুরে সায়েদাবাদ বাসস্ট্যান্ড ঘুরে দেখা গেছে, দূরপাল্লার বাসের কাউন্টারগুলোতে ডেকে ডেকে টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। বাসগুলোতে যাত্রী ছিল না। সায়েদাবাদ এলাকায় তেমন ভিড় ছিল না যাত্রীদের। বছরের অন্যান্য দিনের মতোই ছিল ঢিলেঢালা ভিড়। অনেক বাসেই আসন খালি রেখে ঢাকা ছাড়তে দেখা গেছে। কাউন্টার থেকে জানানো হয়, যাত্রীদের আসলে সঙ্গে সঙ্গে টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে এবং কাঙ্ক্ষিত বাসে আসন দেয়া যাচ্ছে।

সায়েদাবাদ শ্যামলী পরিবহন কাউন্টার ম্যানেজার পবিত্র বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো চাপই নেই। ১৭ তারিখ থেকে চাপ তৈরি হবে। তবে এখনো যে সমস্ত যাত্রীরা আসছেন তাদের আমরা টিকিট দিয়ে দিচ্ছি। যাত্রীরা তাদের চাহিদামাফিক যেতে পারছেন। সাধারণত বরিশাল, বরগুনা, চট্টগ্রাম, সিলেট এসব এলাকার টিকিট পাওয়া যায় সায়েদাবাদ থেকে। কিন্তু এখনো ওই সমস্ত এলাকায় ভিড় দেখা যায়নি। সায়েদাবাদে লাল সবুজ বাস কাউন্টারের ম্যানেজার জনি বলেন, লাল সবুজ বাসের যাত্রীরা এখনই সশরীরে এসেই টিকিট কিনছেন। এখন কাউন্টারে সেরকম কোনো ভিড় নেই যে, টিকিট পাওয়া যাবে না। সব বাসেই এই চিত্র। তবে আমাদের সব অগ্রিম টিকিট অনলাইনে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। অনলাইনেও টিকিট কেনার চাপ পড়েনি।