Image description

হাতে হাত রেখে সারাটি জীবন পাশাপাশি থাকার কথা ছিল। কিন্তু নিয়তি সেটি হতে দেয়নি। ‘রামপাল ট্র্যাজেডি’ নৌবাহিনীর বাস ও মাইক্রোবাস দুর্ঘটনার মৃত্যুর পর নবদম্পতিকে আলাদা করে দিলো। নববধূ মারজিয়া আক্তার মিতুর দাফন হলো খুলনার কয়রার নাকশা গ্রামে। আর স্বামী আহাদুর রহমান সাব্বির চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার শলোবুনিয়া গ্রামে।

বৃহস্পতিবার বিকালে বাগেরহাটের রামপালে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৪ জন নিহত হওয়ার পর পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই রাতে লাশ হস্তান্তর করা হয়। এর মধ্যে নববধূ মিতুসহ তিনজনের লাশ কয়রার নাকশা গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। শুক্রবার সকালে সেখানেই তাদের দাফন করা হয়। মিতুর নানি আনোয়ারা বেগমের লাশ তার গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। অপরদিকে সাব্বিরসহ অন্যান্যদের মরদেহ মোংলায় নিয়ে যাওয়া হয়। জুমার নামাজের পর সেখানেই দাফন করা হয়। রামপালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত নববধূ খুলনার কয়রার নাকশা গ্রামের মারজিয়া আক্তার মিতু, বোন লামিয়া ও দাদি রাশিদা বেগমের জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় নাকশা গ্রামের বাড়ির পাশে মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়। মর্মান্তিক এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার থেকে নাকশা গ্রামে শোকের ছায়া নেমে আসে।

স্থানীয়রা জানায়, সালাম মোড়লের মা রাশিদা বেগম, মেয়ে নববধূ মিতু ও ছোট মেয়ে লামিয়ার মরদেহ গ্রামের বাড়ি নাকশায় আনার পর শুক্রবার সকালে তাদের জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। কনের নানি আনোয়ারা বেগমের মরদেহ তাদের গ্রামে দাফনের জন্য পাঠানো হয়েছে। এদিকে এ রকম মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ১৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনা খুলনায় এই প্রথম। যেখানে উৎসবের আনন্দ থাকার কথা সেখানে শোকে স্তব্ধ মানুষ। মিতুর বাবা আব্দুস সালাম মাঝে মাঝে মূর্ছা যাচ্ছেন।

সূত্রমতে, গত বুধবার রাতে কয়রা উপজেলার নাকশা গ্রামের বাসিন্দা আবদুস সালাম মোড়লের মেয়ে মারজিয়া আক্তারের (মিতু) সঙ্গে বিয়ে হয় মোংলা পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সভাপতি আবদুর রাজ্জাকের ছোট ছেলে আহাদুর রহমানের সাব্বিরের। বিয়ের পর বর-কনেসহ দুই পরিবারের সদস্যরা মাইক্রোবাসে ফিরছিলেন। এরপর মাইক্রোবাসটি রামপাল উপজেলার বেলাইবিজ এলাকায় বিপরীত দিক দিয়ে আসা বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসের চালকসহ ১৪ জন নিহত হন। বর আহাদুর রহমান সাব্বির ও নববধূ মারজিয়া আক্তার মিতু এখন শুধুই স্মৃতি।

নৌবাহিনীর গাড়ির সঙ্গে বর-কনে বহনকারী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে মাইক্রোবাসের চালক নাঈম শেখ নিহত হয়। ভাইয়ের মৃত্যুর সংবাদ শুনে সন্ধ্যার পর খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছুটে আসেন বড় বোন ময়না বেগম। ছোট ভাইয়ের মরদেহ জড়িয়ে ধরে চিৎকার করতে কাঁদতে থাকেন। তার কান্নার শব্দে আশপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। এদিকে মর্মান্তিক এই সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ।