Image description

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পাল্টা হুমকি দিয়েছে ইরান। দেশটির নিরাপত্তা প্রধান আলি লারিজানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে ট্রাম্পকে সতর্ক করেন। 

এক্সে পোস্ট করা ওই সতর্ক বার্তায় লারিজানি বলেন, ‘ইরানের আশুরা অনুসারী জনগণ তোমাদের ফাঁকা হুমকিতে ভীত নয়। তোমার চেয়েও শক্তিশালী অনেকেই ইরানি জাতিকে নিশ্চিহ্ন করতে পারেনি।

সাবধান—পরে নিজেই মুছে যেতে পারেন!’

এর আগে ট্রাম্প ইরান এবং দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেইকে লক্ষ্য করে কঠোর মন্তব্য করেছিলেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ তিনি বলেন, ‘যদি ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহন বন্ধ করার চেষ্টা করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র আগের হামলার তুলনায় বিশ গুণ বেশি শক্তিশালী আঘাত হানবে।’ তার মতে, এমন হামলা হবে যাতে ইরানকে আর কখনো পুনর্গঠন করা সম্ভব না হয়।

ট্রাম্প আরো লিখেছেন, ‘তাদের ওপর মৃত্যু, আগুন এবং তাণ্ডব নেমে আসবে, তবে আমি আশা করি এবং প্রার্থনা করি যেন তা না ঘটে।

’ ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি ইরানের নতুন নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, মোজতবা খামেনেই শান্তিতে থাকতে পারবেন না।

ইরান সম্প্রতি সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইর দ্বিতীয় ছেলে মোজতবা খামেনেইকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করেছে। এ সিদ্ধান্তের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। এর আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, অতীতে যেমন যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলেছিল, তেমনি ইরানের নতুন নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রেও তাদের মতামত থাকা উচিত।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা আরো বেড়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এই প্রণালী দিয়ে পরিবহন হয়। ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যুদ্ধ চলতে থাকলে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মিত্র দেশগুলোর কাছে অঞ্চল থেকে ‘এক ফোঁটা তেলও’ রপ্তানি হতে দেবে না।

ফেব্রুয়ারি ২৮ তারিখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। এরপর থেকে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে।

জবাবে ইসরায়েলসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক দেশে ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।

 

সূত্র : এএফপি।