ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সোমবার তেল আবিবের ন্যাশনাল হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশনস সেন্টারে অনুষ্ঠিত একটি মিটিংয়ে অংশ নিয়েছেন। টাইমস অফ ইসরায়েলের এক খবরে জানানো হয়, শেষ রাতের দিকে জরুরি এই মিটিংটি অনুষ্ঠিত হয়।
মিটিংয়ে নেতানিয়াহু বলেছেন, ‘ইরানের শাসন ব্যবস্থা পতনের দায়িত্ব ইরানি জনগণের হাতে। আমাদের লক্ষ্য, ইরানি জনগণকে নিপীড়নের শিকল ভেঙে বের করে আনতে সাহায্য করা।’
শেষরাতে হাসপাতালটি পরিদর্শনের সময় তিনি আরও বলেন, ‘আসলে শাসনকাঠামো পরিবর্তনের বিষয়টি তাদের ওপরই নির্ভর করছে। তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই, আমরা যেসব পদক্ষেপ নিয়েছি, তাতে তাদের হাড় গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আর এখন আমাদের হাত আরও প্রসারিত হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যদি আমরা ইরানি জনগণের সঙ্গে একত্রে সফল হই, স্থায়ী সমাপ্তি নিয়ে আসতে পারব।’
এদিকে ইরানভিত্তিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে দাবি করা হচ্ছে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিহত হয়েছেন বা অন্তত গুরুতর আহত হয়েছেন। মূলত গত কয়েকদিন ধরে নেতানিয়াহুকে জনসম্মুখে বা কোনো ভিডিও বার্তায় দেখা না যাওয়ায় এই গুঞ্জন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ইরানের আধা সরকারি বার্তাসংস্থা মেহের মঙ্গলবার এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পেছনে বেশ কিছু কারণ উল্লেখ করেছে।
মেহের বলছে, তিন দিন পার হয়ে গেছে নেতানিয়াহু তার ব্যক্তিগত চ্যানেলে শেষ ভিডিও পোস্ট করেছেন। এছাড়া প্রায় চার দিন পার হয়েছে তার শেষ ছবি প্রকাশিত হয়েছে। এরপর থেকে তার নামে কিছু বিবৃতি এসেছে, তা কেবল লিখিত বা টেক্সট আকারে ছিল। এর আগে সাধারণত তার চ্যানেল থেকে প্রতিদিন নিয়ম করে অন্তত একটি এবং কখনও কখনও তিনটি পর্যন্ত ভিডিও প্রকাশ করা হতো। গত তিন দিনে একটি ভিডিও-ও প্রকাশ না পাওয়ায় এই সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।
তবে নেতানিয়াহুর মৃত্যু বা আহত হওয়ার খবরকে একেবারে মিথ্যা বা গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম দ্য জেরুজালেম পোস্ট। সংবাদমাধ্যমটির দাবি, হিব্রু গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে নেতানিয়াহুর ওপর কোনো হামলার প্রমাণ বা আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চিতকরণ দেওয়া হয়নি।