Image description

আমি নাকি মারা গেছি’—কয়েক দিন আগে ঘুম থেকে উঠে অদ্ভুত এই বিষয়টি জানতে পারি। এমনকি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও নাকি মারা গেছেন, বিষয়টি দেখে প্রথমে হাসিই পেয়েছিল। মনে হচ্ছিল এটি ইন্টারনেটের সেই ধরনের অদ্ভুত গুজব, যা হঠাৎ দেখা দেয় এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই মিলিয়ে যায়। কিন্তু এরপর আরও কয়েকটি বার্তা আসতে শুরু করে। পরে দেখলাম অন্তত ইরানের সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী আমি মারা গেছি। এভাবেই ইসরায়েলের এক রিজার্ভ সেনা সদস্য তার মৃত্যু ও নেতানিয়াহুর মৃত্যুর গুঞ্জন তুলে ধরেছেন।

রোববার (৮ মার্চ) এমনই একটি খবর প্রকাশ করেছে দ্য টাইমস অব ইসরায়েল। সেখানে ইরানের সামরিক বাহিনীর সামাজিকমাধ্যম প্রচারণায় নিজেকে ‘নিহত সৈন্য’ হিসেবে দেখতে পাওয়ার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন ইসরায়েলের এক রিজার্ভ সেনা সদস্য। তার দাবি, এটি ইরানের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ ও বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণার একটি উদাহরণ।

 

ওই সেনা সদস্য জানান, কয়েক দিন আগে এক বন্ধু তাকে ফেসবুকের একটি গ্রুপের স্ক্রিনশট পাঠান, যার নাম ছিল “Iranian Military”। সেখানে তার ছবি আরও সাতজন ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) রিজার্ভ সদস্যের ছবির সঙ্গে প্রকাশ করা হয়।

পোস্টটির ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‌‘৮ আইডিএফ সৈন্য নিহত।’ ছবিগুলোর মধ্যে একটি ছিল ওই সেনা সদস্যের।

প্রথমে বিষয়টি দেখে তিনি হাস্যকর মনে করেছিলেন। তার ভাষায়, এটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া অদ্ভুত ধরনের গুজবের মতোই মনে হয়েছিল, যা কিছু সময় পর মিলিয়ে যায়।

তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই বিভিন্ন জায়গা থেকে বার্তা আসতে শুরু করলে বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তিনি। পরিবারের সদস্যরা যাতে গুজবটি আগে না দেখেন, সে কারণে তিনি দ্রুত স্ত্রী ও বাবা–মাকে ফোন করে জানান যে তিনি সুস্থ আছেন।

ওই সেনা সদস্যের মতে, এ ধরনের পোস্ট কেবল সাধারণ ইন্টারনেট ট্রলিং নয়; বরং একটি পরিকল্পিত কৌশলের অংশ।

তার দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের সরকার মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ ও ভুয়া তথ্য প্রচারের কৌশল ব্যবহার করছে। ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও আঞ্চলিক প্রক্সি বাহিনীর পাশাপাশি অনলাইনে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করা এই কৌশলের অন্যতম দিক।

তার মতে, এ ধরনের প্রচারণার মাধ্যমে ইসরায়েলের হতাহতের ভুয়া খবর বা যুদ্ধক্ষেত্রে কল্পিত বিজয়ের গল্প ছড়িয়ে ভয় ও বিভ্রান্তি তৈরি করার চেষ্টা করা হয়।

তিনি আরও লিখেন, কৌতূহল থেকে তিনি পরে ইরানের সামরিক বাহিনীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজেও ঢুঁ মারেন। সেখানে নিম্নমানের এআই দিয়ে তৈরি কিছু ছবি দেখতে পান, যেখানে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে মৃত অবস্থায় দেখানো হয়েছে।

তার মতে, যতটা অদ্ভুতই শোনাক, লাখ লাখ ইরানি নাগরিক এই ধরনের মাধ্যম থেকেই তথ্য পেয়ে থাকেন। অনেকের কাছে এসব প্রচারণা কল্পকাহিনী নয়, বরং বাস্তব খবর হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

তিনি বলেন, বাস্তবে তিনি জীবিত আছেন এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন। তার ভাষায়, ‘বাস্তবতা বারবার এসব দাবিকে ভুল প্রমাণ করে।’

ওই রিজার্ভ সদস্য আরও বলেন, ইসরায়েলের মানুষ এখনো তাদের দৈনন্দিন কাজ করছেন, পরিবার দেখছেন এবং প্রয়োজন হলে দেশের প্রতিরক্ষায় দায়িত্ব পালন করছেন।

তার মতে, যতই গুজব বা ভুয়া তথ্য ছড়ানো হোক না কেন, বাস্তব সত্যকে দীর্ঘদিন আড়াল করা সম্ভব নয়।

সূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরায়েল

শীর্ষনিউজ