ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের একটি মন্তব্যের জেরে দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে ফাটল বা বিভক্তি সৃষ্টির যে খবর ছড়িয়েছিল, তা নাকচ করে দিয়েছে ইরানি নেতৃত্ব। শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি জোর দিয়ে বলেছেন, "আমাদের নেতারা ঐক্যবদ্ধ... এবং নিজেদের মধ্যে কোনো মতবিরোধ নেই।" তিনি আরও বলেন, আমেরিকা ও ইসরায়েলকে মোকাবিলার দৃষ্টিভঙ্গির প্রশ্নে নেতাদের মধ্যে কোনো বিভাজন থাকতে পারে না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষেত্রে আমাদের নিজেদের মধ্যে কোনো বিভক্তি নেই।”
এর আগে একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা না চালানোর বিষয়ে প্রেসিডেন্টের দেওয়া প্রতিশ্রুতি নিয়ে ইরানের "কট্টরপন্থি এবং আপেক্ষিক বাস্তববাদী (বা মধ্যপন্থি) অংশগুলোর" মধ্যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে এও দাবি করা হয় যে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শাসনামলে শাসকগোষ্ঠীর ভেতরের ফাটলগুলো দীর্ঘকাল চাপা পড়ে ছিল, কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর তা এখন প্রকাশ্যে চলে আসছে।
ইরান সরকারের অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ইরানের শীর্ষ ধর্মীয় নেতারা (ক্লেরিকরা) নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করছেন এবং রোববারের মধ্যেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর এক সপ্তাহ ধরে চালানো হামলার জন্য পেজেশকিয়ানের ক্ষমা চাওয়ার পরই মূলত নেতাদের মধ্যে এই মতবিরোধ দেখা দেয়।
কট্টরপন্থি ধর্মীয় নেতা ও আইনপ্রণেতা হামিদ রাসাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেসিডেন্টকে উদ্দেশ করে বলেন, "আপনার অবস্থান ছিল অপেশাদার, দুর্বল এবং অগ্রহণযোগ্য।" পরবর্তীতে প্রেসিডেন্ট যখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার আগের বিবৃতিটির পুনরাবৃত্তি করেন, তখন তিনি ক্ষমা চাওয়ার অংশটুকু বাদ দেন; মূলত এই ক্ষমাপ্রার্থনার বিষয়টিই বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ও অন্যান্য কট্টরপন্থিদের ক্ষুব্ধ করেছিল। ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা খামেনির দপ্তরের ঘনিষ্ঠ এক কট্টরপন্থি নেতা রয়টার্সকে জানান, পেজেশকিয়ানের মন্তব্য আইআরজিসির (IRGC) অনেক জ্যেষ্ঠ কমান্ডারকেও ক্ষুব্ধ করেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে পেজেশকিয়ান বলেছিলেন, "যেসব প্রতিবেশী দেশে ইরান হামলা চালিয়েছে, তাদের কাছে আমি আমার নিজের এবং ইরানের পক্ষ থেকে ক্ষমা চাইছি। অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব পরিষদ গতকাল একমত হয়েছে যে, প্রতিবেশী দেশগুলোতে আর কোনো হামলা চালানো হবে না এবং ওই দেশগুলো থেকে ইরানের ওপর কোনো হামলা না হলে ইরানও তাদের দিকে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়বে না।" তবে পেজেশকিয়ান দৃঢ়তার সাথে জানান যে, তেহরান কোনোভাবেই "আত্মসমর্পণ করবে না"। তিনি বলেন, "শত্রুদের জেনে রাখা উচিত, ইরানি জনগণকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার যে স্বপ্ন তারা দেখছে, তা তাদের কবরে নিয়েই যেতে হবে।"
সূত্র : ওয়ার্ল্ড ইজ ওয়ান নিউজ