সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছবি এবং ভিডিও ছড়িয়ে দিয়ে দাবি করা হচ্ছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দেহরক্ষীকে গ্রেপ্তার করেছে ইরানের সেনাবাহিনী।
একটি পোস্টের ক্যাপশনে বলা হয়, “আলহামদুলিল্লাহ! অবশেষে আয়াতুল্লাহ খামেনি-এর দেহরক্ষী বিশ্বাসঘাতক ঘাতককে গ্রেপ্তার করেছে ইরানের সেনাবাহিনী। অভিযোগ রয়েছে, সে গোপনে খামিনীর অবস্থানের তথ্য ইসরায়েলের কাছে পৌঁছে দিয়েছিল। ইরানের সূত্র মতে, Mojtaba Khamenei-এর নির্দেশে সেই কুখ্যাত গাদ্দারকে প্রকাশ্যে সামনে আনা হয়েছে, যাতে সবাই দেখতে পারে—দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতার পরিণতি কতটা কঠিন হতে পারে।”
তবে দ্য ডিসেন্টের যাচাইয়ে দেখা গেছে, দাবিটি সঠিক নয়।
যাচাইয়ে ভিডিওটির কী-ফ্রেম বিশ্লেষণ ও রিভার্স ইমেজ সার্চ করে দেখা যায়, ভিডিওটি সাম্প্রতিক সময়ের নয়। ২০২৫ সালের ২৬ এপ্রিল ইউটিউবে প্রকাশিত একটি ভিডিওর সঙ্গে ভাইরাল ভিডিওটির হুবহু মিল পাওয়া যায়। ওই ভিডিও-তে আরবি ভাষায় ক্যাপশন দেওয়া ছিল, যার বাংলা অর্থ দাঁড়ায়—“যখন অত্যাচারীর মুখোমুখি হয় নির্যাতিত—এমন একটি ভিডিও যা হৃদয়কে প্রশান্তি দেয়। অপরাধী কর্মকর্তা তায়সির আবু মাহফুদ।”
আরো যাচাইয়ে এই ঘটনার প্রাসঙ্গিক কী-ওয়ার্ড সার্চ করে বিভিন্ন বিদেশী গণমাধ্যমে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়। জর্ডানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রোয়া নিউজ এর ২০২৫ সালের ২৪শে এপ্রিলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিরিয়ার জেনারেল সিকিউরিটি ডিরেক্টরেট এক অভিযানে তাইসির মাহফুদকে গ্রেপ্তার করে। তিনি সিরিয়ার উপকূলীয় শহর টারতুসে একটি পরিকল্পিত অভিযানে ধরা পড়েন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি সিরিয়ার সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার ব্রাঞ্চ ২১৫-এর “রেইড ইউনিটে” কর্মরত ছিলেন এবং দামেস্কের মাজ্জেহ ও কাফার সোসাহ এলাকা থেকে ২০০ এর বেশি বেসামরিক মানুষকে গ্রেপ্তার ও গুম করার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
অর্থাৎ, ভাইরাল ভিডিওটিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির দেহরক্ষী গ্রেপ্তারের ঘটনা হিসেবে প্রচার করা হলেও বাস্তবে এটি সিরিয়ায় এক সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তারের ভিডিও।