ইরানের রাজধানী তেহরানের নিলুফার স্কয়ারে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই।
শুক্রবার এক্সে দেয়া এক পোস্টে তিনি শিক্ষার্থীসহ শহীদ হামেদানি স্কুলের আগের ও হামলার পরের ছবি দিয়েছেন। তবে হামলা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানাননি; হতাহত আছে কিনা, হলে কত তাও বলেননি। খবর আল জাজিরার।
তেহরানের ভাষ্য, সপ্তাহখানেক ধরে চলমান যুদ্ধে এ নিয়ে চতুর্থ ইরানি স্কুলে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালাল।
গত শনিবার হামলা শুরুর দিনেই ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মিনাবে শাজারেহ তাইয়েবা গার্লস স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র পড়ে স্কুলটির অন্তত ১৬০ শিক্ষার্থী ও ৫ কর্মীর মৃত্যু হয় বলে জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেছেন।
ইসরাইল সংশ্লিষ্ট একাধিক ওয়েবসাইট ও সোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে হামলার শিকার হওয়া স্কুলটি ‘ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী আইআরজিসির ঘাঁটির অংশ’ বলে দাবি করা হলেও একাধিক গণমাধ্যম তার সত্যতা পায়নি।
এক দশকেরও বেশি পুরনো উপগ্রহের ছবি এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন, ভিডিও ক্লিপ ও ইরানি কর্মকর্তাদের বিবৃতি বিশ্লেষণ করে আল জাজিরা বলছে, কাছাকাছি সামরিক স্থাপনার চেয়ে স্কুলটি অন্তত ১০ বছর ধরে পৃথক স্থানেই আছে।
যে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ হামলা চালানো হয়েছে সেটি, হামলার ধরন এবং ইচ্ছাকৃতভাবেই স্কুল লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
এ তদন্তের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র স্বীকার করে নেয় যে, তাদের সামরিক বাহিনী ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে।
দুই মার্কিন কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স শুক্রবার এক প্রতিবেদনে জানায়, মিনাবের ওই স্কুলে হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীই দায়ী বলে প্রাথমিকভাবে মনে করছে তারা। তবে এখনই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।
জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার টুর্ক শুক্রবার ওয়াশিংটনের প্রতি তাদের তদন্ত ‘দ্রুত শেষ’ করার আহ্বান জানিয়েছেন।
“আমরা চাই এটা তাড়াতাড়ি শেষ হোক এবং আমরা চাই যেন দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হয় এবং হতাহতদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়,” জেনিভায় সাংবাদিকদের এমনটাই বলেছেন তিনি।
এরপর বৃহস্পতিবারও ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের দক্ষিণপশ্চিমের পারান্দ শহরে দুটি স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
বার্তা সংস্থা ফারস বৃহস্পতিবারের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি শ্রেণিকক্ষ ও কাছাকাছি থাকা আবাসিক ইউনিটের ছবি প্রকাশ করেছে।
শুক্রবার জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ জানিয়েছে, ইরানে হামলায় যে এক হাজার ৩০০-র বেশি মানুষ নিহত হয়েছে তার মধ্যে অন্তত ১৮১ জনই শিশু।
ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো স্কুলে হামলা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হওয়ার কথা। আর যদি এ হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয় তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক দশকের মার্কিন যুদ্ধে বেসামরিক হতাহতের সবচেয়ে জঘন্য ঘটনাগুলোর মধ্যে এই হামলাও থাকবে, বলছে আল জাজিরা।