সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে হামলার পর এবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অবস্থিত দেশটির দূতাবাসে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে তছনছ হয়েছে দূতাবাসের ভবন। গত সোম ও মঙ্গলবার কুয়েত ও রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে হামলার পর ইরান এ হামলা চালায়।
দুবাই মিডিয়া অফিসের বরাতে বুধবার (৪ মার্চ) এমন খবর প্রকাশ করেছে আলজাজিরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার (৩ মার্চ) গভীর রাতে দূতাবাসের আশপাশে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অগ্নিকাণ্ড ঘটেছিল। পরে জরুরি টিমের তৎপরতায় আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে এ হামলায় এখনো হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
আলজাজিরার যাচাই করা ভিডিওতে দেখা গেছে, দুবাইয়ে হামলার পর সেখান থেকে ধোঁয়া উড়ছে। মার্কিন কনস্যুলেটের কাছে ড্রোন হামলায় সেই ভবনে আগুন লেগে যায়, যা ইরানের তরফ থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন কূটনৈতিক মিশনগুলোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করার পর এ ঘটনা ঘটল। এমন খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
স্থানীয় বাসিন্দারা এএফপিকে জানিয়েছেন, তারা একটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পেয়েছেন এবং আগুন দেখতে পেয়েছেন। পুলিশ আশপাশের রাস্তাগুলো বন্ধ করে দিয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতি দেখার চেষ্টাকারী পথচারীদের সরিয়ে দিয়েছে।
অন্যদিকে দুবাই কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, মার্কিন কনস্যুলেটের কাছে ড্রোন হামলায় লেগে যাওয়া আগুন সফলভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। আর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দুবাইয়ে ড্রোন হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং বলেছেন যে, সেখানের সব কর্মী নিরাপদে আছেন।
মার্কো রুবিও ওয়াশিংটনের সাংবাদিকদের বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে চ্যান্সেলরি ভবন-সংলগ্ন একটি পার্কিং লটে আঘাত হেনেছে। এরপর সেখানে আগুন লেগে যায়।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভোরে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে দুটি ড্রোন হামলা চালায় ইরান।
সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রাথমিক তথ্যের বরাত দিয়ে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রিয়াদে মার্কিন দূতাবাস দুটি ড্রোন আঘাত হেনেছে। এতে বিশাল বিস্ফোরণ হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিডিয়ার খবরে বলা হয়েছে।
তারও আগে গত সোমবার (২ মার্চ) কুয়েতে মার্কিন দূতাবাসে হামলা চালায় ইরান।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের হামলা অব্যাহত আছে। তেহরানের হামলায় মার্কিন ঘাঁটি ধ্বংস হয়ে যায়। উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের বোমা বর্ষণের মধ্যে বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনাও রয়েছে।