ইরানের অস্ত্র তৈরির কারখানাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী।
ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সেসের (আইডিএফ) বরাত দিয়ে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানায়।
আইডিএফ জানিয়েছে, ইরানের শাসকগোষ্ঠীর অস্ত্র তৈরির জন্য ব্যবহৃত কারখানাতে তারা আক্রমণ চালিয়েছে। বিশেষ করে ‘ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে ব্যবহৃত সাইটে’ হামলার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
তেহরানের পাশাপাশি ইসফাহান শহরে একযোগে হামলাটি চালানো হয়েছে বলে জানা হয়। হামলার প্রথম ধাপ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছে আইডিএফ। তবে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত কিছু এখনও জানা যায়নি।
স্থানীয় সময় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সকালে হঠাৎ ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বহু শহরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র। পরমাণু ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলাকালে এই হামলা চালানো হয়।
হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদেহ এবং বিপ্লবী গার্ড কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুরসহ অন্তত ৪৮ জন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।
জবাবে ইসরায়েলে ও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইরান। খামেনিকে হত্যার পর রোববার থেকে হামলার তীব্রতা বাড়িয়েছে তেহরান।
চলমান এই সংঘাত বন্ধে এখনও সমাধানের পথ খোলেনি। উল্টো হামলার তীব্রতা দিনদিন বাড়ছে। পাল্টাপাল্টিা হুমকি-ধমকি চলছে। এরমধ্যেই ইরান জানিয়েছে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনায় বসবে না।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৩ জুন ইরানের পরমাণু স্থাপনা ও ড্রোন সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় ইসরাইল। যুক্তরাষ্ট্রও সেই অভিযানে অংশ নেয়। সেসময় ইরানের তিনটি প্রধান পরমাণু কেন্দ্রে আঘাতের দাবি করে পেন্টাগন।
১২ দিনের সংঘাত শেষে ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হলেও পারস্পরিক অবিশ্বাস চরমে পৌঁছে যায়। সেই যুদ্ধ-পরবর্তী উত্তেজনাই এ বছরের সংকটের ভিত গড়ে দেয়।