রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (রাবিসাস) উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়ায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ইসলামী ছাত্রশিবির ও ক্রীয়াশীল ছাত্রসংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে রাবিসাসের সাধারণ সম্পাদক সাজিদ হোসেনের সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি ইরফান তামিম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীন, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান, রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক আখতার হোসেন মজুমদার, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) বিজনেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক শাহীদুল হক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও শিক্ষকবৃন্দ।
এ ছাড়া দৈনিক উত্তরা প্রতিদিনের সম্পাদক ও দৈনিক খবরের কাগজের ব্যুরোপ্রধান এনায়েত করিম, দৈনিক কালবেলার ব্যুরোপ্রধান আমজাদ হোসেন শিমুল, দৈনিক নিউ এজের রাজশাহীর স্টাফ রিপোর্টার সুজন আলীসহ রাজশাহী শহরের বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন বলেন, রোজার মূল উদ্দেশ্য হলো তাকওয়া অর্জন করা। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ আমাদের পূর্ববর্তীদের মতো আমাদের ওপরও রোজা ফরজ করেছেন, যেন আমরা মুত্তাকি হতে পারি। হযরত ওমর (রা.)-এর একটি উদাহরণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেমনভাবে কাঁটাযুক্ত পথে কাপড় সামলে চলতে হয়, তাকওয়াও ঠিক তেমনি—জীবন চলার পথে পাপ থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখা।
তিনি আরো যোগ করেন, ব্যাবসায়িক নীতিশাস্ত্রে আমরা ‘রাইটস অ্যান্ড রং’ বা ন্যায়-অন্যায়ের পার্থক্য শেখাই। তাকওয়ার স্তর তার চেয়েও ওপরে। যদি আমরা প্রতিটি কাজে ন্যায়-অন্যায় বিচার করে চলতে পারি, তবেই রোজার উদ্দেশ্য সফল হবে। মিথ্যা বর্জন করতে না পারলে সেই রোজার কোনো সার্থকতা নেই।
উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, ‘রমজান আমাদের জন্য এক মাসের একটি বিশেষ ট্রেনিং বা প্রশিক্ষণ। এই এক মাস আমরা যে সততা ও আত্মশুদ্ধির চর্চা করি, তা যেন বাকি ১১ মাস আমাদের পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনে বজায় থাকে। নিজেকে পরিশুদ্ধ করতে পারলেই রোজা পালন সার্থক হবে।’
রাবিসাস সভাপতি ইরফান তামিম তার বক্তব্যে ক্যাম্পাসে সুস্থ ধারার রাজনীতির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, আমরা ক্যাম্পাসে দীর্ঘসময় বিভাজনের রাজনীতি দেখেছি।
ইফতার ও দোয়া মাহফিলে রাকসু নেতৃবৃন্দ, ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্র ইউনিয়ন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, ছাত্র অধিকার পরিষদ, বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রী, ছাত্র ফেডারেশন, রাবি রিপোটার্স ইউনিটি, রাবি প্রেস ক্লাবের প্রতিনিধিসহ রাবিসাসের সাবেক ও বর্তমান সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।