আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলা এবং দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের হত্যার প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
রোববার (১ মার্চ) বিকেলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে ঢাকা মহানগরী উত্তর ও দক্ষিণের উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, ইরান একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র।
যারা ইসলামের উত্থান সহ্য করতে পারে না, তারা ইসরায়েলকে ব্যবহার করে ইরানকে ধ্বংস করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। অতীতেও ইরানের ওপর নানা ষড়যন্ত্র হয়েছে, কিন্তু তাদের অগ্রযাত্রা থামানো যায়নি।
তিনি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যসহ সামরিক কর্মকর্তাদের হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, যারা গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের কথা বলে, তারা কীভাবে একটি স্বাধীন দেশে হামলা চালিয়ে নিরীহ মানুষকে হত্যা করে?
‘জাতিসংঘের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ’
জাতিসংঘ ও ওআইসিকে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়ে জামায়াতে ইসলামী ইতিবাচক বিরোধী দলের ভূমিকা পালনের ঘোষণা দিয়েছে। তবে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় বিভিন্ন স্থানে দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
‘হামলার পেছনে বড় শক্তি জড়িত’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সংসদ সদস্য (এমপি) মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ইরানে হামলার পেছনে কেবল ইসরায়েল নয়, আরও শক্তিধর রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এ ধরনের ঘটনা বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা বাড়াবে।
তিনি সব রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন সমানভাবে প্রয়োগের আহ্বান জানান।
কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকেই ইরানকে ঘিরে ষড়যন্ত্র চলছে। তিনি অবিলম্বে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে সরকারের পক্ষ থেকে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আনুষ্ঠানিক নিন্দা প্রস্তাব আনার দাবি জানান।
সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির ও সংসদ সদস্য (এমপি) মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত বিশ্বশান্তির জন্য হুমকি। তিনি অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানান।
সমাবেশ পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও সংসদ সদস্য (এমপি) ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও ড. রেজাউল করিম। সমাবেশে ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনসহ হাজারো নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশ শেষে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি বিজয়নগর ও কাকরাইল হয়ে শান্তিনগর মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
শীর্ষনিউজ