রমজান পবিত্র মাস। এ সময় মানুষের মন থাকে নরম। বিধায় মুক্ত হস্তে দান করেন অনেকেই। আর ঠিক সেই আবেগকেই কাজে লাগাচ্ছিলেন এক ব্যক্তি। দিনের বেলায় তাকে দেখলে মনে হতো ক্লান্ত, অসহায় এক ভিক্ষুক। পোশাক-আশাক, চেহারার ভঙ্গি সবই যেন করুণা আদায়ের জন্য সাজানো। পথচারীদের সামনে তুলে ধরতেন দারিদ্র্যের গল্প।
কিন্তু রাত নামলেই বদলে যেত দৃশ্যপট। ভিক্ষার থালা সরিয়ে রেখে উঠে বসতেন বিলাসবহুল গাড়িতে। একেবারে ভিন্ন জীবন। তবে শেষ পর্যন্ত এই অভিনয় টেকেনি। নজর এড়াতে পারেননি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। অবশেষে ধরা পড়েন ধূর্ত এই ‘বড়লোক ভিক্ষুক’। রমজানের উদারতাকে পুঁজি করে চালানো তার কৌশলের ইতি টানে পুলিশের অভিযান।
সংবাদমাধ্যম খালিজ টাইমসের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে চমকপ্রদ এই গল্প। দুবাই পুলিশের অভিযানে ধরা পড়েছেন এমন এক ভিক্ষুক, যার নামে রয়েছে তিনটি দামি গাড়ি। দিনের বেলায় জনসমক্ষে দারিদ্র্যের গল্প শুনিয়ে টাকা তুলতেন। ‘শিফট’ শেষ হলে ছদ্মবেশ খুলে উঠে বসতেন বিলাসবহুল গাড়িতে। রাস্তায় ভিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে বিপুল অর্থ সংগ্রহের কথা স্বীকার করেছেন ওই ব্যক্তি।
সন্দেহভাজন ও অপরাধমূলক ঘটনা বিভাগের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার আলি আল শামসি বলেন, “ওই ব্যক্তি দিনের বেলায় জনসমক্ষে ভিক্ষা করতেন, ক্লান্তি ও দারিদ্র্যের চিত্র তুলে ধরতেন। কিন্তু তার ‘শিফট’ শেষ হওয়ার পর ছদ্মবেশ ত্যাগ করে একটি বিলাসবহুল গাড়িতে করে চলে যেতেন।”
তিনি আরও জানান, ভিক্ষাবৃত্তি করা এই ব্যক্তি ছিলেন অত্যন্ত কৌশলী। পথচারীদের আবেগে নাড়া দিতে বানানো গল্প ব্যবহার করতেন। এমনকি কর্তৃপক্ষের নজর এড়াতেও ছিলেন পটু। তাকে ‘পেশাদার ভিক্ষুক’ বলা যায়।
রমজানকে কেন্দ্র করে সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলছে কঠোর ভিক্ষাবিরোধী অভিযান। প্রথম সপ্তাহেই বিভিন্ন দেশের ২৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দুবাই পুলিশ। আইন অনুযায়ী ভিক্ষাবৃত্তির শাস্তি কারাদণ্ড ও জরিমানা, আর সংগঠিত চক্র হলে শাস্তি আরও কঠোর।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের ২০১৮ সালের ৯ নম্বর ফেডারেল আইন অনুসারে, ভিক্ষাবৃত্তির সর্বোচ্চ শাস্তি তিন মাসের কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার দিরহাম (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা) জরিমানা। যারা ভিক্ষাবৃত্তির দল সংগঠিত করে বা বিদেশ থেকে ব্যক্তিদের নিয়োগ করে তাদের ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং ১ লাখ দিরহাম (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৮ লাখ টাকা) জরিমানা হতে পারে।
রমজানের আগে দুবাই পুলিশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ওয়েবসাইটে প্রচারিত অনলাইন ভিক্ষাবৃত্তির প্রতারণা সম্পর্কে জনসাধারণকে সতর্ক করেছে। সাইবার অপরাধ দমন বিভাগ জানিয়েছে, প্রতারক ও সংগঠিত ভিক্ষুকরা অবৈধ আর্থিক লাভের জন্য পবিত্র মাসের উদারতাকে কাজে লাগায়।