Image description

মধ্যপ্রাচ্যে ধীরে কিন্তু সুস্পষ্টভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য। ইসরাইলি কৌশলগত বিশ্লেষণগুলো সতর্ক করে বলছে, তুরস্ক ও মিশরের নেতৃত্বে একটি সুন্নি আঞ্চলিক জোট নীরবে অগ্রসর হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে ইসরাইলকে ঘিরে নতুন ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করতে পারে।

 

ইসরাইলি সংবাদ প্ল্যাটফর্ম মিডা-তে প্রকাশিত এবং ইউরোপভিত্তিক গেটস্টোন ইনস্টিটিউট-এর গবেষণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যেখানে ইরানকে ঘিরে আলোচনা প্রাধান্য পাচ্ছে, সেখানে সমান্তরালভাবে একটি সুন্নি কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এগিয়ে চলেছে, যার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্র ও গোটা অঞ্চলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোগান আঙ্কারার নেতৃত্বে সুন্নি-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদারে সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছেন। এই উদ্যোগের লক্ষ্য কেবল অতীতের বিরোধ মিটিয়ে ফেলা নয়, বরং ইসরাইলকে কেন্দ্র করে একটি সমন্বিত রাজনৈতিক ও কৌশলগত বলয় গড়ে তোলা—যা আঞ্চলিক ক্ষমতার সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শুরুতে এরদোগানের সৌদি আরব ও মিশর সফর এবং পরে ইস্তাম্বুলে জর্ডানের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ-কে আতিথ্য দেওয়ার ঘটনাকে এই প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ২০২২ সালে শুরু হওয়া তুরস্ক–আরব দেশগুলোর সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের ধারাবাহিক পরিণতি।

বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে তুরস্ক–মিশর সম্পর্কের নাটকীয় উন্নয়ন। ২০১৩ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এক দশকেরও বেশি সময় ধরে শীতল সম্পর্ক কাটিয়ে দুই দেশ কৌশলগত ঘনিষ্ঠতার পথে এগিয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, এরদোগানের কায়রো সফরে প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ডলারের সামরিক কাঠামো চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার আওতায় যৌথ অস্ত্র উৎপাদন, গোয়েন্দা সহযোগিতা এবং সামরিক মহড়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়।

কৌশলগত দিক থেকে বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সুয়েজ খালের ওপর মিশরের নিয়ন্ত্রণ এবং উত্তর আফ্রিকা ও ভূমধ্যসাগরীয় নিরাপত্তায় কায়রোর কেন্দ্রীয় ভূমিকা এই উদীয়মান সুন্নি জোটকে আরও কার্যকর করে তুলতে পারে। এর ফলে ইসরাইলের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুটগুলোর ওপর আঞ্চলিক লজিস্টিক ও রাজনৈতিক প্রভাব বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, এই মূল্যায়ন ইঙ্গিত দেয়—মধ্যপ্রাচ্যে একক শক্তি হিসেবে ইসরায়েলের প্রভাব আর আগের মতো প্রশ্নাতীত নয়। তুরস্ক ও মিশরের নেতৃত্বে সুন্নি বিশ্বের ক্রমবর্ধমান সমন্বয় অঞ্চলটিতে নতুন শক্তির ভারসাম্য গড়ে তুলছে, যা ইসরাইলকে ঘিরে ভবিষ্যৎ কৌশলগত বাস্তবতাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে পারে।

সূত্র: মিডল ইস্ট মনিটর