চাঁদপুরের মতলব উত্তরের ছেঙ্গারচর পৌরসভায় হাট-বাজার ইজারার টেন্ডার নিয়ে বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের কমপক্ষে পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ছেঙ্গারচর পৌরসভায় গরুর বাজার, মাছ বাজার ও পাঁচটি সিএনজি স্ট্যান্ড ইজারার শিডিউল জমা দেওয়ার সময় এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপি নেতা বদরুজ্জামান, সায়েম, সফিউল্লাহসহ আরও দুজন।
অভিযোগ উঠেছে, যুবদল নেতা আবু সাঈদ বেপারী ও পৌর যুবদলের আহ্বায়ক উজ্জল ফরাজী তাদের সমর্থকদের নিয়ে পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি নান্নু প্রধানসহ অন্যদের শিডিউল জমা দিতে বাধা দেন।
যুবদল নেতা আবু সাঈদ বেপারী বলেন, সিডিউল জমা দেওয়ার সময় ছিল দুপুর ১টা পর্যন্ত। নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর কয়েকজন সিডিউল নিয়ে আসলে আমরা জমা দিতে বাধা দিই। এ সময় তারা আমাদের কর্মী সফিউল্লাহকে মারধর করেন।
অপরদিকে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুল হক সরকার ও পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি নান্নু প্রধান অভিযোগ করেন, প্রশাসনের কারসাজির মাধ্যমে একপক্ষের শিডিউল গ্রহণ করা হয়েছে। তাদের দাবি, টেন্ডার বাক্স উপজেলা, থানা ও পৌরসভায় রাখার কথা থাকলেও কেবল পৌরসভায় রাখা হয়।
তারা বলেন, সিডিউল জমা দিতে গেলে যুবদল নেতা আবু সাঈদ ও পৌর যুবদলের আহ্বায়ক উজ্জল ফরাজীর অনুসারীরা বাধা দেন। একপর্যায়ে বিএনপি নেতা বদরুজ্জামানসহ কয়েকজনকে মারধর করেন।
তারা ছেঙ্গারচর পৌরসভার হাট-বাজার ইজারা বাতিল করে পুনরায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দাবি জানান।
এ বিষয়ে মতলব উত্তর থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ মণ্ডল বলেন, শিডিউল জমা দেওয়া নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, একপক্ষ আরেক পক্ষকে বাধা দেওয়ার বিষয়টি জানা গেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সেনাবাহিনী উপস্থিত ছিল। নির্ধারিত সময়ের পাঁচ মিনিট আগে তারা আসে। শিডিউল জমা দিতে না পারলে সংশ্লিষ্টদের ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, ছেঙ্গারচর পৌরসভায় হাট-বাজার ইজারার সাতটি স্থানের বিপরীতে সাতটি সিডিউল জমা পড়েছে।