ইরানে নতুন করে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী ক্যাম্পাস বিক্ষোভের বিষয়ে প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ায় মঙ্গলবার ইরানের সরকারপক্ষের মুখপাত্র বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের অধিকার রয়েছে, তবে তাদের ‘রেড লাইন’ বুঝতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সপ্তাহান্তে নতুন সেমিস্টার শুরু করে সমাবেশের মাধ্যমে, যেখানে তারা জানুয়ারিতে চূড়ায় পৌঁছনো এবং প্রাণঘাতী দমনের মুখে পড়া দেশব্যাপী বিক্ষোভের স্লোগান পুনরুজ্জীবিত করে।
টানা তৃতীয় দিনের ক্যাম্পাস বিক্ষোভে সোমবার তেহরানের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর গৃহীত ইসলামী প্রজাতন্ত্রের পতাকা পুড়িয়ে দিতে দেখা যায়।
সরকারি মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি মঙ্গলবার বলেন, ‘পবিত্র বিষয় ও পতাকা—এ দুটো আমাদের রক্ষা করতে হবে, এগুলো রেড লাইনের উদাহরণ।
তিনি যোগ করেন, ইরানের শিক্ষার্থীদের ‘হৃদয়ে ক্ষত রয়েছে এবং তারা এমন দৃশ্য দেখেছে যা তাদের ব্যথিত ও ক্ষুব্ধ করতে পারে। এই ক্ষোভ বোধগম্য।’
ডিসেম্বরে নিষেধাজ্ঞায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশের অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে প্রাথমিক বিক্ষোভ শুরু হলেও তা দ্রুত দেশব্যাপী আন্দোলনে রূপ নেয়, যা জানুয়ারির ৮ ও ৯ তারিখে চূড়ায় পৌঁছে এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে ইরানের নেতৃত্বের জন্য অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠে।
অস্থিরতার প্রেক্ষিতে সরকার কঠোর দমন-পীড়ন চালায়, যাতে হাজারো মানুষ নিহত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) সাত হাজারের বেশি মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত করেছে এবং সতর্ক করেছে, প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে।
ইরানি কর্মকর্তারা তিন হাজারের বেশি মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছেন। তবে তাদের দাবি, সহিংসতা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দ্বারা উসকানিপ্রাপ্ত ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’-এর ফল।
বিক্ষোভ চলাকালে সরকার একদিকে আন্দোলনকারীদের অর্থনৈতিক ক্ষোভের বৈধতা স্বীকারের চেষ্টা করলেও, অন্যদিকে তথাকথিত ‘দাঙ্গাবাজদের’ নিন্দা জানিয়েছিল।
মোহাজেরানি মঙ্গলবার বলেন, একটি তথ্য-অনুসন্ধানী মিশন বিক্ষোভের ‘কারণ ও উপাদান’ তদন্ত করছে এবং শিগগিরই প্রতিবেদন দেবে।