ইরানে গত মাসের প্রাণঘাতী দমন-পীড়নের পর এই প্রথম বড় পরিসরে সরকারবিরোধী আন্দোলনে নেমেছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শনিবার রাজধানী তেহরানের একাধিক ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়।
শরিফ ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির ক্যাম্পাসে শত শত শিক্ষার্থী জাতীয় পতাকা হাতে শান্তিপূর্ণ মিছিল করেন—এমন ভিডিও যাচাই করেছে বিবিসি। নতুন সেমিস্টারের শুরুতেই আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিক্ষোভকারীরা “স্বৈরাচারের মৃত্যু হোক”সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। এখানে “স্বৈরাচার” বলতে তারা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনিকে ইঙ্গিত করেছেন বলে জানা যায়।
একই সময় কাছাকাছি এলাকায় সরকারপন্থীদের একটি সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয়। পরে দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনাও ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
শাহিদ বেহেশতি বিশ্ববিদ্যালয়ে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচির ছবি প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া আমিরকাবির ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজিতে সরকারবিরোধী স্লোগানের ভিডিওও যাচাই করা হয়েছে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মাশহাদে শিক্ষার্থীরা “স্বাধীনতা, স্বাধীনতা” এবং “শিক্ষার্থীরা, অধিকার আদায়ে সোচ্চার হও” স্লোগান দেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। দেশের আরও কয়েকটি এলাকায় বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে এবং রোববারও কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
গত মাসে অর্থনৈতিক সংকট ঘিরে শুরু হওয়া আন্দোলন দ্রুত সরকারবিরোধী গণবিক্ষোভে রূপ নেয়, যা ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর সবচেয়ে বড় বলে মনে করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (হরানা) দাবি করেছে, ওই দফার বিক্ষোভে অন্তত ৬ হাজার ১৫৯ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৫ হাজার ৮০৪ জন বিক্ষোভকারী, ৯২ জন শিশু এবং ২১৪ জন সরকার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি রয়েছেন। সংস্থাটি আরও ১৭ হাজার মৃত্যুর অভিযোগ তদন্ত করছে বলেও জানিয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, ৩ হাজার ১০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য বা “দাঙ্গাবাজদের” হামলার শিকার সাধারণ নাগরিক।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে। তবে আগামী “১০ দিনের মধ্যেই” বোঝা যাবে চুক্তি সম্ভব কি না, নাকি সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় মিত্ররা সন্দেহ করছে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে এগোচ্ছে—যদিও তেহরান এ অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে। সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক হয়েছে এবং উভয় পক্ষই আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত দিয়েছে।
এ প্রেক্ষাপটে প্রবাসী ইরানি বিরোধী গোষ্ঠীর একাংশ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সামরিক পদক্ষেপের আহ্বান জানালেও, অন্য অংশ বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই পক্ষই নিজেদের অবস্থানের পক্ষে জনমত গঠনের চেষ্টা চালাচ্ছে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা।