Image description

বন্দুকের ইতিহাস কেবল বারুদ আর ধাতুর সংমিশ্রণের গল্প নয়, বরং এটি মানব সভ্যতার গতিপথ বদলে দেওয়ার এক মহাকাব্য। দীর্ঘ পরিক্রমায় বন্দুক যেমন সাম্রাজ্য গড়েছে, তেমনি ভেঙেছে বহু প্রাচীন আভিজাত্য। এ নিয়ে লিখেছেন অনিন্দ্য নাহার হাবীব

আগ্নেয়াস্ত্রের আদিলগ্ন

বন্দুকের ইতিহাসের শেকড় পোঁতা রয়েছে প্রাচীন চীনে। নবম শতকে চীনা কিমিয়াবিদ বা আলকেমিস্টরা যখন অমরত্বের অমৃত খুঁজছিলেন, তখন দুর্ঘটনাক্রমে পটাশিয়াম নাইট্রেট, সালফার এবং কাঠকয়লার মিশ্রণে তৈরি হয় বারুদ। শুরুতে এটি কেবল ধর্মীয় উৎসব বা আতশবাজিতে ব্যবহৃত হলেও খুব দ্রুত এর ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা মানুষের নজরে আসে। প্রথম দিকে বাঁশের নলের ভেতর বারুদ ও পাথর ভরে এক ধরনের আদিম বন্দুক বা ‘ফায়ার ল্যান্স’ তৈরি করা হয়। ১২ শতকের দিকে এই বাঁশের নল স্থলাভিষিক্ত হয় ধাতু দিয়ে, যা ইতিহাসে ‘হ্যান্ড ক্যানন’ নামে পরিচিত। এই হ্যান্ড ক্যাননগুলো ছিল অত্যন্ত ভারী এবং অনির্ভরযোগ্য। এগুলো লক্ষ্যভেদে খুব একটা কার্যকর না হলেও এর বিকট শব্দ আর আগুনের ঝলকানি শত্রুপক্ষের ঘোড়া এবং সৈন্যদের মনে চরম ত্রাসের সৃষ্টি করত। সিল্ক রোডের মাধ্যমে এই প্রযুক্তি মঙ্গোলদের হাত ধরে মধ্যপ্রাচ্য হয়ে ইউরোপে পৌঁছায়, যা পুরো বিশ্বের যুদ্ধব্যবস্থাকে চিরতরে বদলে দেয়।

চতুর্দশ শতকে যখন ইউরোপে আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যাপক ব্যবহার শুরু হয়, তখন সেখানকার সামাজিক কাঠামো ছিল সামন্ততান্ত্রিক। বর্মধারী নাইটরা ছিলেন যুদ্ধের প্রধান শক্তি এবং বিশাল পাথরের দুর্গ ছিল নিরাপত্তার প্রতীক। কিন্তু বন্দুক ও কামানের আগমনে এই ব্যবস্থার পতন ত্বরান্বিত হয়। কামানের গোলা যখন অজেয় দুর্গের দেয়াল ধসিয়ে দিতে শুরু করল, তখন রাজারা বুঝতে পারলেন যে বিশাল সেনাবাহিনীর চেয়ে আগ্নেয়াস্ত্রধারী ছোট বাহিনী অনেক বেশি শক্তিশালী। এতে করে নাইটদের আভিজাত্য মøান হতে থাকে, কারণ একজন সাধারণ কৃষকও কয়েক সপ্তাহের প্রশিক্ষণে একটি বন্দুক দিয়ে বহু বছরের প্রশিক্ষিত নাইটকে পরাস্ত করতে পারতেন। এই পরিবর্তনটিই মূলত মধ্যযুগের অবসান ঘটিয়ে আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার ভিত্তি স্থাপন করে, যেখানে পদাতিক বাহিনীর গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে যায়।

যান্ত্রিক বিবর্তন

বন্দুকের মেকানিজমে পরিবর্তন আনা ছিল বিজ্ঞানীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। শুরুর দিকের বন্দুকগুলো জ্বালাতে হতো হাতে ধরা মশাল দিয়ে, যা লক্ষ্যস্থির করার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াত। এই সমস্যার সমাধান হিসেবে ১৫ শতকে আসে ‘ম্যাচলক’ সিস্টেম। এতে একটি লিভার বা ট্রিগারের সাহায্যে জ্বলন্ত সলতেকে বারুদের সংস্পর্শে আনা হতো। তবে এই পদ্ধতিতে বৃষ্টির দিনে যুদ্ধ করা ছিল অসম্ভব। এর পরবর্তী ধাপ ছিল ‘হুইললক’, যা ১৬ শতকে আবিষ্কৃত হয়। এটি ছিল আধুনিক লাইটারের মতো একটি মেকানিজম, যেখানে স্টিলের চাকার ঘর্ষণে আগুনের ফুলকি তৈরি হতো। হুইললক অত্যন্ত দামি ছিল বলে এটি কেবল অভিজাতদের শিকারের বন্দুক হিসেবে ব্যবহৃত হতো। ১৭ শতকের দিকে আসে ‘ফ্লিন্টলক’, যা চকমকি পাথরের ঘর্ষণে আগুন জ্বালাত। এটি ছিল অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য এবং পরবর্তী ২শ বছর এটিই ছিল বিশ্বের প্রধান সামরিক প্রযুক্তি। ঊনবিংশ শতাব্দীতে ‘পারকাশন ক্যাপ’ আবিষ্কৃত হওয়ার পর বন্দুক আর বৃষ্টির ওপর নির্ভর থাকল না, যা বন্দুককে অনেক বেশি প্রাণঘাতী করে তোলে।

শিল্পবিপ্লব ও আধুনিক রাইফেল

আঠারো ও উনিশ শতকের শিল্পবিপ্লব বন্দুকের উৎপাদন ও প্রযুক্তিতে আমূল পরিবর্তন আনে। বন্দুকের নলের ভেতরে খাঁজ কাটা বা ‘রাইফ্লিং’ পদ্ধতি আবিষ্কার হওয়ার ফলে গুলির পাল্লা ও লক্ষ্যভেদ বহুগুণ বেড়ে যায়। এর আগে বন্দুকের নল ছিল মসৃণ, যার ফলে গুলি নির্দিষ্ট দিকে যেত না। কিন্তু রাইফ্লিং করা নলের মধ্য দিয়ে বের হওয়া গুলি লাটিমের মতো ঘুরতে ঘুরতে বের হয়, যা একে অনেক দূর পর্যন্ত নির্ভুল রাখে। এই সময়েই তৈরি হয় ‘মিনি বল’ (গরহরল্ক নধষষ) নামক এক বিশেষ ধরনের গুলি, যা আমেরিকান সিভিল যুদ্ধে ভয়াবহ প্রাণহানি ঘটিয়েছিল। শিল্পবিপ্লবের ফলে হাজার হাজার বন্দুক কারখানায় তৈরি হতে শুরু করে, যা আগে হাতে বানাতে মাসখানেক সময় লাগত। এই গণ-উৎপাদনই প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছিল।

ইতিহাসের পাতায় এমন কিছু আগ্নেয়াস্ত্রের নাম খোদাই করা আছে, যা কেবল যুদ্ধজয়ের অস্ত্র হিসেবে নয়, বরং আধুনিক বিশ্বের মানচিত্র এবং সমাজব্যবস্থা পরিবর্তনের কারিগর হিসেবে পরিচিত। এই প্রভাবশালী অস্ত্রগুলো প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের চেয়েও বেশি কিছু ছিল; এগুলো ছিল একেকটি যুগের প্রতিনিধি।

কোল্ট রিভলভার : ঊনবিংশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে স্যামুয়েল কোল্ট যখন প্রথম রিভলভার পেটেন্ট করেন, তখন থেকেই ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ধারণা বদলে যায়। এর আগে বন্দুক ছিল একবার গুলি ছুড়ে আবার নতুন করে লোড করার এক ঝামেলার কাজ। কোল্ট রিভলভারের ঘূর্ণায়মান সিলিন্ডার একজন মানুষকে পরপর ছয়টি গুলি করার সুযোগ করে দেয়। আমেরিকার পশ্চিম প্রান্তের জনবসতি গড়ে ওঠার সময় এই অস্ত্রটি এতই জনপ্রিয় হয়েছিল যে একে বলা হতো ‘দ্য গ্রেট ইকুয়ালাইজার’ বা সমতা আনয়নকারী। কারণ, এই বন্দুক হাতে

থাকলে একজন শারীরিক দুর্বল মানুষও একজন শক্তিশালী আক্রমণকারীর বিরুদ্ধে সমানভাবে লড়তে পারত। এটি কেবল আত্মরক্ষার অস্ত্র থাকেনি, বরং এটি হয়ে ওঠে আমেরিকান কাউবয় সংস্কৃতি এবং পরবর্তী সময়ে আধুনিক পুলিশের প্রধান হাতিয়ার।

ম্যাক্সিম গান : ১৮৮৪ সালে হাইরাম ম্যাক্সিম যখন বিশ্বের প্রথম সত্যিকারের স্বয়ংক্রিয় মেশিনগান আবিষ্কার করেন, তখন যুদ্ধের সংজ্ঞা পুরোপুরি বদলে যায়। এর আগে হাতে চালানো গ্যাটলিং গান

থাকলেও ম্যাক্সিম গান ছিল পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় অর্থাৎ একবার ট্রিগার চাপলে এটি অবিরাম গুলি ছুড়তে পারত। ঊনবিংশ শতকের শেষের দিকে ইউরোপীয় শক্তিগুলো আফ্রিকা ও এশিয়ায় তাদের উপনিবেশ স্থাপনে এই ম্যাক্সিম গানকে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় এই বন্দুকটি ‘নরকের যন্ত্র’ হিসেবে পরিচিতি পায়। পরিখা যুদ্ধে (ঞৎবহপয ডধৎভধৎব) হাজার হাজার সৈন্য যখন খোলা ময়দান দিয়ে দৌড়ে আসত, তখন একটি মাত্র ম্যাক্সিম গান কয়েক মিনিটের মধ্যে পুরো ব্যাটালিয়নকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারত। এই অস্ত্রের বিধ্বংসী ক্ষমতাই মূলত পদাতিক বাহিনীর উন্মুক্ত আক্রমণ কৌশলের ইতি ঘটায় এবং ট্যাংক ও সাঁজোয়া যানের প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে দেয়।

এসটিজি-৪৪ : দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মাঝামাঝি সময়ে জার্মান প্রকৌশলীরা বুঝতে পেরেছিলেন যে, প্রচলিত রাইফেলগুলো অনেক লম্বা এবং ক্লোজ রেঞ্জ যুদ্ধের জন্য অনুপযুক্ত। এই চিন্তা থেকেই জন্ম নেয় ‘স্টার্মগেভেয়ার ৪৪’ বা এসটিজি-৪৪। এটিই ছিল বিশ্বের প্রথম সত্যিকারের অ্যাসল্ট রাইফেল। এতে রাইফেলের পাল্লা এবং সাব-মেশিনগানের দ্রুত গুলি চালানোর ক্ষমতা উভয়ই ছিল। এর সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব ছিল এর ইন্টারমিডিয়েট কার্তুজ, যা ওজনে হালকা কিন্তু যথেষ্ট শক্তিশালী। যদিও জার্মানি যুদ্ধে হেরে গিয়েছিল, কিন্তু এসটিজি-৪৪-এর ডিজাইন পরবর্তী সময়ে একে-৪৭ এবং এম-১৬-এর মতো আধুনিক সব অ্যাসল্ট রাইফেলের ভিত্তি স্থাপন করে দেয়। যুদ্ধের ময়দানে অল্প সময়ে অনেক বেশি আগ্নেয় শক্তি প্রয়োগের যে ধারণা এটি দিয়েছিল, তা আজও আধুনিক সমরবিদ্যার মূলমন্ত্র।

একে-৪৭ : বন্দুকের ইতিহাসে রাশিয়ার মিখাইল কালাশনিকভের তৈরি একে-৪৭ বা কালাশনিকভ রাইফেলের মতো প্রভাবশালী আর কোনো দ্বিতীয় অস্ত্র নেই। ১৯৪৭ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নে তৈরি এই রাইফেলটি তার অদ্ভুত স্থায়িত্ব এবং সহজ মেকানিজমের জন্য অমর হয়ে আছে। এই বন্দুকটি বালু, কাদা কিংবা বরফের নিচে চাপা পড়ার পরও অনায়াসেই কাজ করতে পারে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ল্যাবরেটরি থেকে শুরু করে ভিয়েতনামের গহিন জঙ্গল সবখানেই এটি সমান কার্যকর। একে-৪৭ কেবল একটি অস্ত্র থাকেনি, এটি হয়ে ওঠে বিংশ শতাব্দীর মুক্তি সংগ্রাম, গেরিলা যুদ্ধ এবং এমনকি অনেক দেশের জাতীয় পতাকার অংশ (যেমন মোজাম্বিক)। সহজলভ্য এবং খুব কম প্রশিক্ষণে চালানো যায় বলে এটি বিশ্বের প্রতিটি সংঘাতময় অঞ্চলে পৌঁছে গেছে। কোল্ড ওয়ার বা স্নায়ুযুদ্ধের সময় এটি ছিল পশ্চিমা বিশ্বের প্রধান ভয়ের কারণ।

এম-১৬ : একে-৪৭-এর যখন বিশ্ব জুড়ে দাপট, ঠিক তখন আমেরিকা নিয়ে আসে তার পাল্টা জবাব এম-১৬ রাইফেল। ১৯৬০-এর দশকে ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় প্রবর্তিত এই রাইফেলটি ছিল আধুনিক প্রযুক্তির এক অনন্য নিদর্শন। এটি তৈরি করা হয়েছিল হালকা অ্যালুমিনিয়াম এবং প্লাস্টিক দিয়ে, যার ফলে একজন সৈনিক অনেক বেশি গুলি সঙ্গে নিয়ে দ্রুত চলাফেরা করতে পারত। এর নির্ভুলতা বা একুরেসি ছিল একে-৪৭-এর চেয়ে অনেক বেশি। যদিও শুরুতে ভিয়েতনামের আর্দ্র আবহাওয়ায় এটি জ্যাম হওয়ার সমস্যায় ভুগত, কিন্তু পরবর্তী সংস্করণে এটি বিশ্বের অন্যতম নির্ভরযোগ্য রাইফেলে পরিণত হয়। বর্তমানে বিশ্বের বেশিরভাগ উন্নত দেশের সামরিক বাহিনী এবং বিশেষায়িত ইউনিটগুলো এম-১৬ বা এর আধুনিক সংস্করণ এম-৪ কারবাইন ব্যবহার করে। এটি আধুনিক যুদ্ধের ‘সার্জিক্যাল প্রিসিশন’ বা নিখুঁত আক্রমণের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রাজনীতি ও বন্দুকের নল

মাও সে তুং-এর সেই বিখ্যাত উক্তি ‘ক্ষমতা বন্দুকের নল থেকে নিঃসৃত হয়’ বাস্তবিকভাবেই বিশ্বের বহু ইতিহাসের সাক্ষী। উপনিবেশবাদ স্থাপনে ইউরোপীয়দের সবচেয়ে বড় অস্ত্র ছিল তাদের উন্নত বন্দুক। ব্রিটিশরা যখন ভারতে আসে, তখন তাদের আগ্নেয়াস্ত্রের শ্রেষ্ঠত্বই তাদের জয় নিশ্চিত করেছিল। আবার ঔপনিবেশিক শাসনের অবসানেও বন্দুক বড় ভূমিকা রেখেছে। বিংশ শতাব্দীর মুক্তি সংগ্রামগুলোতে গেরিলা যোদ্ধারা চোরাগোপ্তা হামলায় হালকা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে বিশাল বিশাল সাম্রাজ্যবাদী বাহিনীকে নাস্তানাবুদ করেছে। আফগানিস্তান থেকে শুরু করে ল্যাটিন আমেরিকা পর্যন্ত, বন্দুক কেবল শোষণের যন্ত্র নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রে এটি মুক্তির প্রতীক হিসেবেও দেখা দিয়েছে। ফলে রাজনীতি আর বন্দুকের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য হয়ে উঠেছে।

সামাজিক নিরাপত্তা ও নৈতিকতা

আধুনিক সমাজে বন্দুকের উপস্থিতি একটি জটিল নৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অনেক সংস্কৃতিতে বন্দুককে দেখা হয় আত্মরক্ষা এবং শিকারের প্রয়োজনীয় উপকরণ হিসেবে। কিন্তু ক্রমবর্ধমান অপরাধ এবং গণ-সহিংসতার প্রেক্ষাপটে বন্দুক নিয়ন্ত্রণ আইনের দাবি জোরালো হচ্ছে। আমেরিকার মতো দেশে যেখানে বন্দুক রাখা সাংবিধানিক অধিকার, সেখানেও এখন প্রতিদিনকার সহিংসতা মানুষকে ভাবিয়ে তুলছে। প্রশ্ন ওঠে, বন্দুক কি মানুষকে নিরাপত্তা দেয় নাকি নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করে? এই নৈতিক দ্বন্দ্বের কোনো সহজ সমাধান নেই। সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করেন, বন্দুক সহিংসতা কেবল একটি যান্ত্রিক সমস্যা নয়, এটি মানসিক স্বাস্থ্য এবং সামাজিক বৈষম্যের সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত।