শেষ হয়ে আসছে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়। এবার বিদায়ের পালা। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর যত দ্রুত সম্ভব বিদায় নেবেন তারা। এই বিদায়ের আগে আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে সরকারের শেষ বৈঠক। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আজ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সচিবদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে তার সভাপতিত্বে সকাল সোয়া ১০টায় প্রথমে সচিবদের সঙ্গে বৈঠক হবে। এ সময় প্রধান উপদেষ্টা সচিদের উদ্দেশ্যে ভাষণও দেবেন। এরপর উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র জানায়, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে সচিব আছেন ৭৫ জন। এর মধ্যে চুক্তিভিত্তিক ১৬ জন সচিব নিয়োগ পেয়েছেন। তারা প্রত্যেকে এ বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর আজ ৯ ফেব্রুয়ারি সরকারের শেষ বৈঠক হতে যাচ্ছে। বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বিদায়ী ভাষণে সচিবদের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলবেন। এরপর উপদেষ্টাদের সঙ্গে শেষ বৈঠকের মাধ্যমে সরকারের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম সমাপ্তির কথা বলতে পারেন। ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জরুরি প্রয়োজনে শুধু উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে হতে পারে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম গত বৃহস্পতিবার এক ব্রিফিংয়ে বলেন, “নির্বাচনের পর যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হবে। সবচেয়ে দ্রুত সময়ে ক্ষমতা হস্তান্তর হবে এবার। যদি দেখা যায়, তিন দিনের মধ্যে এমন হয় যে সংসদ সদস্যরা শপথ নিয়েছেন, তারপর সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা ডাকা হচ্ছে যে আপনি আসেন শপথ নেন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে। তিন দিনের মধ্যে এটা হয়ে যেতে পারে। ১৫, ১৬ ফেব্রুয়ারিতে হতে পারে। আমার মনে হয় না এটি ১৭, ১৮ ফেব্রুয়ারির পরে যাবে।”
এদিকে বিদায়ের প্রস্তুতি হিসেবে উপদেষ্টারা তাদের সরকারি বাসভবন ও কূটনৈতিক পাসপোর্ট সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ফেরত দেয়া শুরু করেছেন। এরই মধ্যে দুজন উপদেষ্টা তাদের সরকারি বাসা ছেড়ে দিয়েছেন। বাসাটি বুঝে নেয়ার জন্য তারা চিঠি দিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে। অন্যদিকে তিনজন উপদেষ্টা ও চুক্তিতে নিয়োগ পাওয়া একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান সরকারি বাসা ছাড়ার বিষয়ে চিঠি দিয়েছেন। আরও কয়েকজন উপদেষ্টা ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সরকারি বাসা ছেড়ে দেবেন এবং কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেবেন। গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার তাদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছেন। এ ছাড়া পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলমও জমা দিয়েছেন তার লাল পাসপোর্ট।
শীর্ষনিউজ