Image description

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জাতীয়তাবাদী শক্তির শিকড় এত গভীরে যে অপপ্রচার দিয়ে একে ঢেকে রাখা যাবে না। এই শক্তি সোজা মেরুদণ্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকবে।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় শিল্পকলা চিত্রশালা মিলনায়তনে জাসাস নির্মিত নির্বাচনী প্রচারণা সঙ্গীত উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, কুৎসা ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী, গীতিকার, অভিনয়শিল্পী ও সুরকারদেরই অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে। তাদের সুললিত ধ্বনি ও শক্তিশালী শব্দ দিয়েই সত্য, ন্যায় ও ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করা সম্ভব।

বিএনপির এই নেতা বলেন, এখন আমাদের সামনে প্রধান সংগ্রাম হলো নির্বাচন। এই নির্বাচনকে সংগ্রামের মতো করে বিজয়ে পরিণত করতে হবে। চারদিকে চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র, অপপ্রচার ও মিথ্যাচার চলছে। প্রযুক্তির মাধ্যমে ‘প্রপাগান্ডা বট’ ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে চরিত্রহনন ও অপপ্রচারের চেষ্টা করা হচ্ছে।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলো মূলত দেশের প্রকৃত সুরকে তুলে ধরে। বিশেষ সময় ও পরিস্থিতিকে সামনে রেখে এসব আয়োজন হয়। আন্দোলনের সময় মৌসুমীদের কণ্ঠে গাওয়া “দেশটা তোমার বাপের নাকি” গানটি শুধু বাংলাদেশেই নয়, দেশের সীমানা ছাড়িয়ে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, দেশের ভয়াবহ দুঃশাসন ও আতঙ্কের সময়ে কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী, কণ্ঠশিল্পী ও গীতিকাররা তাদের সৃষ্টির মাধ্যমে মানুষকে প্রেরণা দিয়েছেন। নিপীড়নের মুখেও তারা জনগণকে পিছু হটতে দেননি। এটাই সাংস্কৃতিক সংগঠন ও সংস্কৃতিমনা মানুষদের অসামান্য অবদান।

তিনি আরও বলেন, সংস্কৃতি একটি দেশের সমগ্র মানবগোষ্ঠী ও জাতিগোষ্ঠীকে প্রভাবিত ও পরিচালিত করার ক্ষমতা রাখে। এমন শক্তিও এর আছে যে, দুঃস্বপ্নের মধ্যেও মানুষ হাসতে হাসতে জীবন দিতে প্রস্তুত হয়। গান, কবিতা কিংবা অভিনয়ের মতো নানা মাধ্যম দিয়েই এই প্রেরণা ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব।

রিজভী বলেন, ২৪ জুলাই ও আগস্টের আন্দোলনে সাংস্কৃতিক কর্মীরাই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। গ্রেপ্তারের দিন ধানমন্ডি থেকে লুকিয়ে মোটরসাইকেলে করে প্রেসক্লাব যাওয়ার পথে তিনি দেখেছেন, ধারালো অস্ত্র নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মিছিল করছিল। তারা টের না পাওয়ায় তিনি রক্ষা পান।

তিনি বলেন, পথিমধ্যে মানিক মিয়ার সামনে পথনাটক দেখে প্রথমে তিনি ভীত হলেও পরে বুঝতে পারেন, এটি গণতন্ত্র ও মুক্তির পক্ষে আয়োজন। অভিনয়শিল্পীদের সাহসী ভূমিকা দেখে তিনি অভিভূত হন এবং সেদিনই তার মনে হয়—শেখ হাসিনার পক্ষে আর টিকে থাকা সম্ভব নয়।

তিনি জানান, ঘটনাটি ছিল ১৯ জুলাই ২০২৪, শুক্রবার। প্রেসক্লাবে পৌঁছানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই শর্টগানের গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেডে পুরো এলাকা আতঙ্কিত হয়ে ওঠে। এরপর তাকে প্রেসক্লাবের ভেতর থেকেই গ্রেপ্তার করা হয়। তবে এরপর তার মধ্যে আর কোনো ভয় বা সংশয় কাজ করেনি।

রিজভী বলেন, যখন জাতির সন্তানেরা রাস্তায় নেমে দ্বিধাহীনভাবে সরকারের বাহিনীর সামনে বুক চিতিয়ে দাঁড়ায়, তখন কোনো ফ্যাসিস্ট শক্তি টিকে থাকতে পারে না। এর প্রমাণ মুগ্ধ, আবু সাঈদ, আহনাফ ও ওয়াসিম আকরামদের মতো তরুণরা।

তিনি বলেন, ছাত্রজীবনে “মনের আনন্দে, প্রাণের আনন্দে” ও “প্রথম বাংলাদেশ, আমার শেষ বাংলাদেশ” গান গাইতে গাইতেই তারা রাজনীতির পথে নেমেছেন। সেই গীতিকারের পাশে বসে থাকার অনুভূতি ছিল কাজী নজরুল ইসলামকে সামনে পাওয়ার মতো।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, এসব সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বই একটি দর্শন ও আদর্শ প্রতিষ্ঠা করেছেন তাদের সৃষ্টির মাধ্যমে। যার ফলে আজ জনগণের হৃদয়ের গভীরে ধানের শীষ হেমন্তের বাতাসে দুলছে। এই দর্শনকে চিনেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। আর সেটিকে মানুষের মনে গেঁথে দিতে সহায়তা করেছেন মনিরুজ্জামান মনির, কবি আল মাহমুদ, শাহনাজ রহমতুল্লাহসহ বহু সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব।

সাবেক এই ছাত্র নেতা বলেন, সাংস্কৃতিক সংগ্রাম ও চর্চার কোনো বিকল্প নেই। জাসাসের নেতৃবৃন্দকে তিনি সবসময় বলেন—মিছিল বা স্লোগানের প্রয়োজন নেই। অনুষ্ঠান দেখলেই বোঝা যাবে, এখানে কবি, লেখক, কণ্ঠশিল্পী ও গীতিকারদের মিলনমেলা।

রিজভী আরও বলেন, সাংস্কৃতিক সান্নিধ্য মানুষের রুচি, ভাষা ও মানসিকতার পরিবর্তন ঘটায়। যে সামাজিক অবস্থান থেকেই মানুষ আসুক না কেন, সংস্কৃতি তাকে উন্নত রুচিসম্পন্ন মানুষে পরিণত করতে সক্ষম।

বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটির আহবায়ক চিত্রনায়ক হেলাল খান এর সভাপতিত্বে জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব জাকির হোসেন রোকন এর সঞ্চালনায় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপি'র সহপ্রচার সম্পাদক আসাদুজ্জামান শাহিনসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।

শীর্ষনিউজ