দীর্ঘ উত্তেজনার পর ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসার ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ঠিক এমনই সময়ে ইরানের একটি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করেছে মার্কিন বাহিনী। এই ঘটনার ব্যাখায় যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে, নিরাপত্তার স্বার্থে এমন করা হয়েছে। খবর আল জাজিরার
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ‘আত্মরক্ষা এবং রণতরীতে থাকা সদস্যদের নিরাপত্তার জন্য’ একটি ইরানি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে। ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন থেকে মার্কিন যুদ্ধবিমানটি উড়েছিল। ড্রোনটি রণতরীর কোনো ক্ষতি করতে পারেনি।
সেন্টকম জানায়, শাহেদ-১৩৯ ড্রোনটি ইরানের দক্ষিণ উপকূল থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার (৫০০ মাইল) দূরে থাকা বিমানবাহী রণতরীর দিকে ‘আগ্রাসীভাবে” এগিয়ে আসছিল। ড্রোনটির উদ্দেশ্য ছিল ‘অস্পষ্ট’। আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবস্থান করা মার্কিন বাহিনী উত্তেজনা কমানোর বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার পরও ড্রোনটি জাহাজটির দিকে এগিয়ে যেতে থাকে।
এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ইরানি কর্তৃপক্ষের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম সূত্রের বরাতে জানায়, আন্তর্জাতিক জলসীমায় একটি ড্রোনের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ড্রোনটি এর আগে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-এর কাছে ‘সফলভাবে’ তথ্য পাঠিয়েছিল বলে দাবি করা হয়।
তাসনিম জানায়, কেন এই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলো, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে।
এরমাঝে একটি যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী জাহাজকে তাড়া দেয় ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী। সেন্টকম বলছে, আইআরজিসি এর দুটি নৌকা ও একটি ইরানি মোহাজের ড্রোন উচ্চ গতিতে এম/ভি স্টেনা ইম্পেরেটিভ নামের জাহাজটির দিকে এগিয়ে আসে। ট্যাংকারটিতে উঠে তা দখল করার হুমকি দেয়।
ইরানের ফার্স সংবাদ সংস্থা ইরানি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, ওই জাহাজটি প্রয়োজনীয় আইনগত অনুমতি ছাড়া ইরানের আঞ্চলিক জলসীমায় প্রবেশ করেছিল। তাদের দাবি, জাহাজটিকে সতর্ক করা হলে সেটি এলাকা ত্যাগ করে।