Image description
 

মিয়ানমারে সামরিক বাহিনীর পরিচালিত বহুল সমালোচিত নির্বাচনের সময় দেশজুড়ে বিমান হামলায় অন্তত ১৭০ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর জানিয়েছে, ‘বিশ্বস্ত সূত্র’ অনুযায়ী ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে চলতি জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত নির্বাচনের পুরো সময়জুড়ে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ৪০৮টি বিমান হামলা চালিয়েছে। গত সপ্তাহে দেশটিতে ভোটগ্রহণের তৃতীয় ও শেষ ধাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। যদিও এই নির্বাচনকে ইতোমধ্যেই বহু দেশ ও মানবাধিকার সংগঠন প্রহসন বলে আখ্যা দিয়েছে।

 

রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, সামরিক বাহিনী সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছে। এটি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত এই ভোটের কারণে প্রত্যাশিতই ছিল।

 
 

বিবিসি জানিয়েছে, দেশটির বড় অংশে ভোটগ্রহণই সম্ভব হয়নি। ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নেত্রী অং সান সু চিকে ক্ষমতাচ্যুত ও কারাবন্দি করার পর থেকেই মিয়ানমার ভয়াবহ গৃহযুদ্ধে জর্জরিত।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) এবারের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অনুমতি পায়নি। দলটি অভ্যুত্থানের আগে পরপর দুই নির্বাচনে ভূমিধস বিজয় পেয়েছিল।

জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক শুক্রবার এক বিবৃতিতে নির্বাচনটিকে সামরিক বাহিনী দ্বারা সাজানো বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, বিরোধী প্রার্থীদের পাশাপাশি কয়েকটি জাতিগত গোষ্ঠীকেও নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, মানুষ ভোট দেবে কি না সে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভয়ের কারণে। এটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের সম্পূর্ণ পরিপন্থি।

জাতিসংঘ মানবাধিকার দপ্তরের মিয়ানমার টিমের প্রধান জেমস রোডেহাভার জানান, বেসামরিক মৃত্যুর এই পরিসংখ্যান সংগ্রহ করা হয়েছে ডিসেম্বরের প্রচারণা শুরুর সময় থেকে জানুয়ারির শেষ ভোটপর্ব পর্যন্ত। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকা এবং অনেক এলাকায় মানুষের ভয় পাওয়ার কারণে প্রকৃত নিহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। এএফপিকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জানান, এই তথ্য এখনো অসম্পূর্ণ।