Image description
 

যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনকে ঘিরে সদ্য প্রকাশিত নথিতে উঠে এসেছে নতুন ও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি বিশ্বাসযোগ্য গোপন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রভাব বা নিয়ন্ত্রণের আওতায় ছিলেন।  

 

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ট্রাম্প অর্গানাইজেশন এবং তার প্রথম মেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক মাত্রায় প্রভাব বিস্তার করেছিলেন।

 

এফবিআই নথি অনুযায়ী, কুশনার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রুশ বিনিয়োগ অর্থ স্থানান্তরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং রুশ রাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্কিত আর্থিক স্বার্থ যথাযথভাবে প্রকাশ করেননি। প্রতিবেদনে তার মালিকানাধীন রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম ‘ক্যাডর’-কে বিদেশি অর্থ মধ্যস্থতার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সম্ভাব্য মাধ্যম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

নথিতে ট্রাম্পের অতীত রিয়েল এস্টেট লেনদেনও নতুন করে পর্যালোচনা করা হয়েছে। বিশেষ করে বেভারলি হিলসে প্রায় ৪ কোটি ১০ লাখ ডলারের একটি সম্পত্তি কেনার পর সেটি প্রায় ৯ কোটি ৫০ লাখ ডলারে বিদেশি সংযোগ থাকা একটি শেল কোম্পানির কাছে বিক্রির ঘটনাকে ‘সন্দেহজনক’ এবং তদন্তযোগ্য ‘রেড ফ্ল্যাগ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। 

এপস্টেইনের আইনজীবী অ্যালান ডারশোভিটজের নামও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। গোপন সূত্রের দাবি, তিনি ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রভাবাধীন ছিলেন এবং অভিজাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিজের অবস্থান ব্যবহার করে রাজনৈতিক ও আর্থিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তুলতেন। 

 

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, এপস্টেইন তদন্তসংক্রান্ত ৩০ লাখের বেশি নথি, দুই হাজারেরও বেশি ভিডিও এবং প্রায় এক লাখ ৮০ হাজার ছবি জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়েছে। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ জানান, বিস্তারিত অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনার পর এসব নথি প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৯৯০ ও ২০০০ দশকে এপস্টেইনের সঙ্গে সামাজিক সম্পর্ক রাখলেও পরবর্তীতে তাদের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। ট্রাম্প একাধিকবার দাবি করেছেন, এপস্টেইনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তিনি কোনো তথ্য জানতেন না। এপস্টেইন সংশ্লিষ্ট মামলায় ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কখনোই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়নি।

জেফ্রি এপস্টেইনকে ২০১৯ সালে ফেডারেল যৌন পাচার মামলায় বিচারাধীন অবস্থায় কারাগারে মৃত অবস্থায় পাওয়া যান। কর্তৃপক্ষ তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে ঘোষণা করলেও ঘটনাটি ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে নানা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব আলোচনায় রয়েছে।