ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবৈধ দোকানসংক্রান্ত একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর বক্তব্য ও অপপ্রচার চালানোর অভিযোগে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমাকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুর আড়াইটার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান নুরুল গনি সগীর।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাবি শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাইফুল্লাহ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শিশির তানিম। জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-সভাপতি নুরুল গনি সগীরের পক্ষে তার আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট নাজমুস শাকিব এ নোটিশ পাঠান।
সংবাদ সম্মেলনে নুরুল গনি সগীর বলেন, গত ২৪ জানুয়ারি ক্যাম্পাসে অবৈধ দোকান নিয়ে করা একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলা হয়। বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে তিনি বলেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তিনি ২৫ জানুয়ারি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে অভিযোগকারীদের ১২ ঘণ্টার সময় বেঁধে দেন, যাতে অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ উপস্থাপন করা যায়।
তিনি বলেন, নির্ধারিত সময় পার হয়ে তিন থেকে চার দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ, ছবি কিংবা ভিডিও উপস্থাপন করা হয়নি। এ অবস্থায় তিনি বিষয়টি আইনি পথে মোকাবিলা করার সিদ্ধান্ত নেন।
আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্ট ও পরবর্তী বিভিন্ন বক্তব্যে নুরুল গনি সগীরকে চাঁদাবাজ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মানহানিকর। এসব বক্তব্যের কারণে তাঁর ব্যক্তিগত, সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও নোটিশে দাবি করা হয়।
নোটিশে আরও বলা হয়, অভিযোগের পক্ষে কোনো ধরনের বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন না করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে একজন ছাত্রনেতাকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড দণ্ডবিধি অনুযায়ী মানহানি ও হয়রানিমূলক অপরাধের আওতায় পড়ে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
আইনি নোটিশে সর্বমিত্র চাকমাকে নোটিশ প্রাপ্তির ১০ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ্যে অভিযোগ প্রত্যাহার, সংশ্লিষ্ট পোস্ট ও বক্তব্য অপসারণ এবং নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে নোটিশে সতর্ক করা হয়।