Image description
 

আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা ও খনিজ সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোতে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে। মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রিনল্যান্ডের খনিজ সম্পদে রাশিয়া ও চীনের প্রবেশাধিকার সীমিত করতে ন্যাটোর ভেতরে আলাপ-আলোচনা চলছে। 

মূলত ন্যাটোভুক্ত নয় এমন দেশগুলোকে এই দ্বীপে খননকার্য থেকে বিরত রাখা এবং খনিজ অনুসন্ধান লাইসেন্সের ওপর কঠোর নজরদারি বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত এই অঞ্চলটি জিঙ্ক, সোনা, লোহা এবং বিরল সব খনিজ উপাদানে সমৃদ্ধ হলেও এর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বড় শক্তিগুলোর মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থান ও প্রাকৃতিক সম্পদের কথা উল্লেখ করে দ্বীপটি কেনার বিষয়ে বারবার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, রাশিয়া ও চীনের প্রভাব থেকে গ্রিনল্যান্ডকে রক্ষা করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ জরুরি।

এরই ধারাবাহিকতায় দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে ট্রাম্প জানান, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে একটি রূপরেখা এখন আলোচনার টেবিলে রয়েছে, যা দেশটিতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি আরও বৃদ্ধি করবে। এমনকি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইঙ্গিত দিয়েছেন, সামরিক সুরক্ষার বিনিময়ে গ্রিনল্যান্ডের প্রাকৃতিক সম্পদের একটি অংশ দাবি করতে পারে ওয়াশিংটন।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই 'সুরক্ষা' তত্ত্ব এবং খনিজ সম্পদ দখলের চেষ্টাকে ভালোভাবে দেখছে না গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক কর্তৃপক্ষ। গ্রিনল্যান্ডের খনিজ সম্পদ মন্ত্রী নাজা নাথানিয়েলসেন জানিয়েছেন, তাদের খনিজ খাতের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন গ্রিনল্যান্ডের বাইরে অন্য কোথাও নির্ধারিত হবে, এটা তারা মেনে নেবেন না। 

ডেনমার্কও ওয়াশিংটনের এই বয়ান প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, গ্রিনল্যান্ডের ওপর বর্তমানে বাইরের কোনো সামরিক হুমকি নেই। অন্যদিকে বেইজিং মনে করছে, রাশিয়া ও চীনকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে ওয়াশিংটন আসলে আর্কটিক অঞ্চলে নিজের আধিপত্য বিস্তার করতে চাইছে।

রাশিয়া অবশ্য শুরু থেকেই গ্রিনল্যান্ডের বিষয়ে তাদের অনাগ্রহের কথা জানিয়ে আসছে। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, গ্রিনল্যান্ড পরিস্থিতি রাশিয়ার উদ্বেগের কারণ নয়। ডেনমার্কে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত ভ্লাদিমির বারবিন জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ডের সম্পদ আহরণ রাশিয়ার জন্য অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হবে না। রাশিয়ার নিজস্ব আর্কটিক অঞ্চলেই বিশাল তেল, গ্যাস, তামা এবং সোনার মজুত রয়েছে। যেখানে নিজ দেশেই বিশাল ভাণ্ডার বিদ্যমান এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি আছে, সেখানে গ্রিনল্যান্ডের মতো প্রতিকূল ও অবকাঠামোবিহীন পরিবেশে বিশাল বিনিয়োগ করার কোনো যৌক্তিকতা মস্কো দেখছে না। ফলে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে পশ্চিমাদের উদ্বেগ রাশিয়ার কাছে ভিত্তিহীন বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।

সূত্র: আরটি